
মহাকালের মহাকাব্যের এক মহাসমাপ্তি ঘটলো
জাহাঙ্গীর আলম স্টাফ রিপোর্টার মানিকগঞ্জ
আপোষহীন দেশনেত্রী, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সমাধির মধ্য দিয়ে। ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা হয়ে রইল তাঁর বিদায়, যে বিদায় শুধুই একজন রাজনৈতিক নেত্রীর নয়—বরং একটি যুগের, একটি আদর্শের, একটি আপসহীন সংগ্রামের।
পৃথিবীর ইতিহাসে সম্ভবত সবচেয়ে বড় জানাজার নামাজের মধ্য দিয়ে শেষ হলো এই মহীয়সী নারীর পার্থিব অধ্যায়।
জানাজার নামাজে অংশগ্রহণ করেন দেশের সর্বস্তরের মানুষ—শ্রমজীবী, কৃষক, ছাত্র, নারী, বুদ্ধিজীবী, আলেম-ওলামা, রাজনীতিবিদসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ। গণিতিক হিসাব ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ধারণা অনুযায়ী, প্রায় ৬০ লক্ষ মানুষ জানাজার নামাজে শরিক হন, যা বিশ্ব ইতিহাসে নজিরবিহীন বলে অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করছেন।
ঢল নামে জনসমুদ্রের। রাজধানী থেকে জেলা, উপজেলা, প্রত্যন্ত গ্রাম—সব পথ যেন এক বিন্দুতে এসে মিলিত হয়। মানুষের চোখে ছিল অশ্রু, কণ্ঠে ছিল দোয়া, আর হৃদয়ে ছিল গভীর শূন্যতা। ‘আপোষহীন দেশনেত্রী’—এই অভিধা যে কেবল রাজনৈতিক স্লোগান নয়, বরং জনগণের অনুভূতির প্রতিফলন—তা এই জানাজাই প্রমাণ করে।
বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের প্রতীক, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের সাহসী কণ্ঠস্বর এবং নারী নেতৃত্বের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। বহু প্রতিকূলতা, কারাবরণ, অসুস্থতা ও রাজনৈতিক চাপে নতিস্বীকার না করে তিনি আজীবন লড়াই করে গেছেন নিজের আদর্শে অটল থেকে। তাঁর জানাজায় মানুষের এই বিপুল উপস্থিতি ছিল সেই আপসহীনতার প্রতি জাতির নীরব শ্রদ্ধা।
বিশ্বের আর কোনো দেশে, আর কোনো রাজনৈতিক নেত্রীর জানাজায় এত বিপুল মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ঘটেছে কি না—তা নিয়েই এখন আলোচনা করছেন ইতিহাসবিদ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। অনেকের মতে, এটি শুধু একটি জানাজা নয়; এটি ছিল একটি গণরায়ের নীরব বহিঃপ্রকাশ, একটি অধ্যায়ের চূড়ান্ত সাক্ষ্য।
মহাকালের মহাকাব্যে বেগম খালেদা জিয়া আজ চিরনিদ্রায় শায়িত। তবে তাঁর আদর্শ, সংগ্রাম ও নেতৃত্ব—বাংলাদেশের রাজনীতি ও জনগণের স্মৃতিতে চিরকাল অম্লান হয়ে থাকবে।