
খালেদা জিয়ার জানাজায় নিহত নিরবের পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস বিএনপির
পটুয়াখালী জেলা প্রতিনিধি মোঃ রুবেল হোসেন
পটুয়াখালী বাউফলে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশ নিতে গিয়ে রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউতে পদদলিত হয়ে নিহত পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার বাসিন্দা নিরব হোসেনের (৫৬) পরিবারের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।*
বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) দুপুরে পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের বড় ডালিমা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে নিরব হোসেনের দাফন সম্পন্ন হয়।+
কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আকন কুদ্দুসুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান নিহত নিরব হোসেনের মৃত্যুর খবরে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং তার পরিবারকে সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদানের নির্দেশ দিয়েছেন।+
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, নিরব হোসেন বিএনপির একজন নিবেদিতপ্রাণ সমর্থক ছিলেন। বুধবার বেগম খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশ নিতে তিনি রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউতে যান। জানাজা শেষে অতিরিক্ত ভিড়ের মধ্যে ফেরার সময় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এ সময় পদদলনের ঘটনায় গুরুতর আহত হলে উপস্থিত লোকজন তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।+
নিরব হোসেন পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের বড় ডালিমা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায় পরিবারসহ ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন এবং একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন। তিনি এক ছেলে ও এক মেয়ের জনক। তার ছেলে তাহসিন হোসেন নাহিয়ান (১৫) এবং মেয়ে নুসরাত জাহান নাফিসা (১৪)।+
জানা গেছে, ২০২৪ সালের জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থানে অংশ নিতে গিয়ে নিরব হোসেনের ছেলে তাহসিন গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন। গুলির আঘাতে তার মেরুদণ্ডের স্পাইনাল কর্ড ছিঁড়ে যায়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের পর অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় তাকে সিএমএস হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। পরবর্তীতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উদ্যোগে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ব্যাংককে পাঠানো হয়। চার মাস চিকিৎসাধীন থাকার পরও তার শারীরিক অবস্থার উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি। বর্তমানে দেশে ফিরিয়ে এনে সিএনএস হাসপাতালে তার চিকিৎসা চলছে।+
এ বিষয়ে আকন কুদ্দুসুর রহমান বলেন, “নিরব হোসেনের মৃত্যু অত্যন্ত বেদনাদায়ক। তারেক রহমান স্পষ্টভাবে নির্দেশ দিয়েছেন—এই পরিবারকে একা ফেলে দেওয়া যাবে না। তাহসিনের চিকিৎসার জন্য দেশে কিংবা বিদেশে যা কিছু প্রয়োজন, বিএনপি তা করবে। পরিবারে কর্মক্ষম কেউ থাকলে তার কর্মসংস্থানের ব্যবস্থাও করা হবে। বিএনপি সবসময় এই পরিবারের পাশে থাকবে।”++