
অভিজিত শীল নাচোল উপজেলা প্রতিনিধি :
আসন্ন পবিত্র রমজান উপলক্ষে নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্যের বাজারদর স্থিতিশীল ও সহনীয় পর্যায়ে রাখার লক্ষ্যে আয়োজিত উপজেলা প্রশাসনের প্রস্তুতি মূলক সভা বয়কট করেছেন সর্বদলীয় নেতৃবৃন্দ। সভার নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উপস্থিত না হওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে সংবাদকর্মী ও স্থানীয় প্রতিনিধিরা সভা কক্ষ ত্যাগ করেন।আজ বুধবার সকাল ১০টায় উপজেলা পরিষদের মিনি হলরুমে এই সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। সভার নির্ধারিত সময়ে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতৃবৃন্দ, বণিক সমিতির সদস্য, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত হন। তবে সভার সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গোলাম রব্বানী সরদার সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত সভাস্থলে উপস্থিত না হওয়ায় উপস্থিত প্রতিনিধিরা চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেন এবং সভা বর্জন করে বেরিয়ে যান।
উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও নাচোল ইউপি চেয়ারম্যান অভিযোগ করে বলেন, বর্তমান ইউএনও যোগদানের পর থেকেই কোনো সভাই সময় মতো পরিচালনা করেন না।শিক্ষক ও জন প্রতিনিধিদের সঙ্গে তাঁর আচরণে নূন্যতম সৌজন্য বোধের অভাব পরিলক্ষিত হয়।উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু তাহের খোকন জানান:ইউএনও’র আহ্বানেই আমরা সভায় এসেছিলাম।কিন্তু তিনি নিজে উপস্থিত না হয়ে উপস্থিত সবাইকে অবজ্ঞা করেছেন।আমাদের উপস্থিতির কথা জানানো হলেও তিনি কর্ণপাত করেননি, তাই আমরা সভা বয়কট করতে বাধ্য হয়েছি।কসবা ইউপি চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা জাকারীয়া আল মেহরাব এবং স্থানীয় অন্যান্য নেতৃবৃন্দ ইউএনও’র বিরুদ্ধে পক্ষপাতমূলক আচরণ এবং গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিতর্কিত ব্যক্তিদের দায়িত্ব দেওয়ার অভিযোগও তোলেন। জামায়াতের উপজেলা আমীর ইয়াকুব আলী ও পৌর আমীর মনিরুল ইসলামও এই অপেশাদার আচরণের তীব্র নিন্দা জানান।এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গোলাম রব্বানী সরদার কিছুটা ভিন্ন সুর পোষণ করেন।তিনি জানান, মিটিং সকাল ১০টায় ছিল।আধা ঘণ্টা বা এক ঘণ্টা দেরি হতেই পারে।আমি নির্দিষ্ট কয়েকজন নেতাকে ডেকেছিলাম, সবাইকে নয়।উপজেলা প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তার এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ ও সভার সময়ক্ষেপণকে কেন্দ্র করে নাচোলের রাজনৈতিক ও সচেতন মহলে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট সভায় প্রশাসনের এমন উদাসীনতা আসন্ন রমজানে বাজার নিয়ন্ত্রণে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।