
ভারতে মুসলিম নির্যাতনের প্রতিবাদে পিরোজপুরে বিক্ষোভ
সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান বক্তাদের।
সৈয়দ আল রাজী, পিরোজপুর প্রতিনিধি | ১৬ মে ২০২৬
ভারতে সংখ্যালঘু মুসলিমদের ওপর হত্যা, নির্যাতন, বসতবাড়ি ও মসজিদ ধ্বংসের ঘটনার প্রতিবাদে পিরোজপুরে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। জেলা ইমাম পরিষদের ব্যানারে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে শহরের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ধর্মপ্রাণ মানুষ অংশ নেন।
শনিবার (১৬ মে) আসর নামাজের পর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়। মিছিলটি শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে কৃষ্ণচূড়া মোড় ও সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় এলাকা ঘুরে পুনরায় মসজিদ মোড়ে এসে শেষ হয়। পুরো শহরজুড়ে এ সময় প্রতিবাদী স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে পরিবেশ।
মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা “নারায়ে তাকবির আল্লাহু আকবার”, “দ্বীন ইসলাম জিন্দাবাদ”, “বিশ্বের মুসলিম এক হও”, “মুসলিম নির্যাতন বন্ধ করো”, “মসজিদ-মাদ্রাসায় হামলার বিচার চাই” এবং “ইসলামবিদ্বেষী ষড়যন্ত্র রুখে দাও”সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।
বিক্ষোভ মিছিলে বিভিন্ন মসজিদের ইমাম, আলেম-উলামা, ধর্মপ্রাণ মুসল্লি, ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।
পরে কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ চত্বরে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তারা বলেন,
“ইসলাম শান্তি, সহনশীলতা ও মানবতার ধর্ম। মুসলমান কখনো অন্যায় ও জুলুমের পক্ষে থাকতে পারে না। ভারতে মুসলিমদের ওপর চলমান সহিংসতা ও নির্যাতন মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন।”
বক্তারা আরও বলেন, “মসজিদ ভাঙার রাজনীতি বন্ধ করতে হবে” এবং “সংখ্যালঘু মুসলমানদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি।” তারা অভিযোগ করেন, উগ্র সাম্প্রদায়িক রাজনীতির কারণে ভারতে মুসলিম জনগোষ্ঠী আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।
সমাবেশে পিরোজপুরের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বিষয়টি বিশেষভাবে তুলে ধরে বক্তারা বলেন, ভারতে ঘটে যাওয়া ঘটনার কোনো নেতিবাচক প্রভাব যেন বাংলাদেশের কোথাও, বিশেষ করে পিরোজপুরে বসবাসরত হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর না পড়ে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। ইসলাম কখনো নিরপরাধ মানুষের ক্ষতি করার শিক্ষা দেয় না বলেও তারা উল্লেখ করেন।
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের ইমাম হাফেজ মো. জুবায়ের, জেলা ইমাম পরিষদের সিনিয়র সহ-সভাপতি দেলোয়ার হোসেন, সহ-সভাপতি মিজানুর রহমান প্রমুখ।
এ সময় “ইসলাম অবমাননার রাজনীতি মানি না”, “সীমান্ত হত্যা বন্ধ করতে হবে” এবং “ভারতীয় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে সোচ্চার হও”সহ বিভিন্ন স্লোগান উচ্চারিত হয়।