
বানিয়াচংয়ে ২ (দুই) চেয়ারম্যানের ভক্তদের সংঘর্ষে পুলিশসহ অর্ধশতাধিক আহত-
শাব্বীর আহমদ শিবলী নোমানী
বিশেষ সংবাদদাতা হবিগঞ্জ
হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে চেয়ারম্যান ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দ্বন্দ্বের জেরে গ্রামবাসীর রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে অন্তত অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে সাউন্ড গ্রেনেড ও ৫ রাউন্ড কাঁদানো গ্যাস ছুড়েছে পুলিশ।
পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, গত ডেভিল হান্টের অভিযানে গ্রেফতার হন উপজেলার ৭নং বড়ইউড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আওয়ামীলীগ নেতা ফরিদ আহমদ। এরপর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন প্যানেল চেয়ারম্যান যুবদল নেতা মিজানুর রহমান কপিল।
বিএনপি সরকার গঠনের পর জামিন পান চেয়ারম্যান ফরিদ আহমদ। তিনি আইনগত দায়িত্ব ফিরে পেয়ে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান কপিলকে দায়িত্ব হস্তান্তর করতে বললে এতে তিনি সাড়া দেননি।
আজ সোমবার (৮জুন) সকাল সাড়ে ১১ টায় চেয়ারম্যান ফরিদ আহমদ কালাইনজুড়া ইউনিয়ন পরিষদে গেলে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান কপিল এর সাথে বাকবিতন্ডা হয়। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে চেয়ারম্যান ফরিদ আহমদ এর পক্ষে কদুপুর, নোয়াগাঁও গ্রাম এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান কপিল এর পক্ষে হলদারপুর গ্রামবাসী এসে দেশীয় অস্ত্র-শস্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এতে উভয় পক্ষের অন্তত অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হন।
খবর পেয়ে বানিয়াচং থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে সাউন্ড গ্রেনেড ও ৫ রাউন্ড কাঁদানো গ্যাস ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
উভয় পক্ষের গুরুতর আহতদের সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।
এব্যাপারে চেয়ারম্যান ফরিদ আহমদ জানান, আমার অবর্তমানে মিজানুর রহমান কপিল ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেয়। আমি আসার পর সে দায়িত্ব হস্তান্তর না করায় মহামান্য হাইকোর্ট, হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা স্যারের লিখিত অর্ডার নিয়ে আমি চেয়ারম্যান অফিসে যাই। পূর্ব থেকে প্রস্তুতি নিয়ে থাকা মিজানুর রহমান কপিল আমি এবং আমাদের লোকদের উপর স্ব-শস্র হামলা চালায়। এতে আমাদের লোকজন অনেক আহত হয়েছেন। আমি এর বিচার চাই।
ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান কপিল জানান, ১০ মাস যাবত ফরিদ চেয়ারম্যান জেলে ছিলেন। আমি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এর দায়িত্ব পালন করি। জেল থেকে বের হয়ে আওয়ামীলীগের অনেক লোককে নিয়ে চেয়ারম্যান অফিসে আসলে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এসময় তিনি বিএনপির ওয়ার্ড কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক বলে জানান। এসময় এ প্রতিনিধি তাকে ফরিদ চেয়ারম্যান দায়িত্ব গ্রহণ করতে মহামান্য হাইকোর্ট এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগের আদেশের কাগজপত্র থাকার পরও কেন দায়িত্ব হস্তান্তর করছেন না এ প্রশ্ন করলে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।
এ ব্যাপারে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ নাজমুল হক জানান, ২ চেয়ারম্যানের দ্বন্দ্বের জেরে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে এবং বর্তমান অবস্থায় উভয় পক্ষ শান্ত আছে।