
একটি জাতিকে ধ্বংস করতে কোনো যুদ্ধ লাগে না, মাদক আর অনলাইন জুয়াই যথেষ্ট।
নাম: মোঃ খাইরুল ইসলাম শ্রীপুর উপজেলার প্রতিনিধি গাজীপুর
একটি জাতিকে ধ্বংস করতে কোনো যুদ্ধ লাগে না, মাদক আর অনলাইন জুয়াই যথেষ্ট।
আজ খুব ভারী মন নিয়ে কিছু বাস্তব কথা লিখতে বাধ্য হচ্ছি। মাদকের বিষাক্ত ছোবল আজ আমাদের সমাজের প্রধান ফটক ভেঙ্গে রন্ধ্রে রন্ধ্রে ঢুকে পড়েছে। পাড়া-মহল্লা, অলিগলি—আজ কোথাও আর আমাদের সন্তানেরা নিরাপদ নয়।
ইয়াবা এখন শুধু একটা মাদক নয়, এটা একটা প্রজন্ম ধ্বংসের মরণাস্ত্র।
এর সাথে নতুন মহামারি হিসেবে যোগ হয়েছে ‘অনলাইন জুয়া’। উঠতি বয়সের ছেলেমেয়েরা মাদকের নেশায় বুঁদ হয়ে রাতভর স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে অনলাইন জুয়ার অন্ধকার জগতে ডুবে থাকছে। যে বয়সে তাদের চোখে থাকার কথা ছিল সুন্দর ভবিষ্যৎ আর মেধার বিকাশ, সেই বয়সে তাদের গ্রাস করছে এই ভয়ংকর আসক্তি।
সবচেয়ে নির্মম দৃশ্য হলো অসহায় বাবা-মায়েদের নীরব কান্না…
যাদের সন্তান এই পথে পা বাড়িয়েছে, সেই বাবা-মায়েরা জীবন্ত লাশ হয়ে বেঁচে আছেন। লোকলজ্জার ভয়ে বাইরে হয়তো তারা মুখ খোলেন না, কিন্তু ভেতরে ভেতরে প্রতিদিন ভাঙ্গেন, প্রতিদিন মরেন। তাদের এই দীর্ঘশ্বাস, নির্ঘুম রাত আর নীরব কান্নার হিসাব কি কেউ রাখে?
যে পরিবারে একটি সন্তান মাদকাসক্ত, সেই পরিবারের জন্য দুনিয়াটাই এক জীবন্ত জাহান্নাম।
এর ভুক্তভোগী আমি সহ আমার বাবা-মাও আমার দুই ভাই মাদকাসক্ত বাবা মায়ের ঘরবাড়ি সহ বিক্রি করে তারা ক্ষান্ত হয়নি, মানুষের জিনিসপত্র চুরি করে জেলও খেটেছে, তারপরও নেশা ছাড়ছে না।
মনে রাখবেন, আজ যদি আমরা চুপ থাকি, কাল আমার-আপনার ঘরও এই আগুন থেকে রক্ষা পাবে না।
প্রশ্ন একটাই—আর কত পরিবার ধ্বংস হলে, আর কত মায়ের বুক খালি হলে আমাদের বিবেক জাগ্রত হবে? এখনই সময় দল-মত নির্বিশেষে এই সামাজিক ব্যাধির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর। প্রশাসন এবং পরিবার—উভয়কেই সচেতন হতে হবে।
আসুন, আমাদের চারপাশকে মাদকমুক্ত করি, সন্তানদের সময় দিই, সমাজকে বাঁচাই।