
ফেনী ইউনিভার্সিটিতে মাদকবিরোধী সচেতনতায় জোরালো উদ্যোগ
মোহাম্মদ হানিফ ফেনী জেলা প্রতিনিধি।
শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে প্রাণবন্ত সেমিনার; মাদকমুক্ত ক্যাম্পাস গঠনে সম্মিলিত প্রতিশ্রুতি
০৬ মে ২০২৬
ফেনী ইউনিভার্সিটিতে ‘মাদকবিরোধী সামাজিক সচেতনতা ও আমাদের সম্মিলিত দায়িত্ব’ শীর্ষক এক গুরুত্বপূর্ণ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনোভেশন হাব (FU-iHub) এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (DNC), ফেনী-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ সেমিনারটি অনুষ্ঠিত হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের হল রুম (C#৬০১)-এ। শিক্ষার্থীদের মধ্যে মাদকবিরোধী সচেতনতা বৃদ্ধি এবং একটি নিরাপদ, সুস্থ ও মাদকমুক্ত ক্যাম্পাস গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এই আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন ফেনীর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের প্রসিকিউটর নূর মোহাম্মদ। তিনি সেমিনারের উদ্দেশ্য তুলে ধরে বলেন, তরুণ সমাজকে মাদকের ভয়াবহতা সম্পর্কে সচেতন করে তোলাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফেনী ইউনিভার্সিটির ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য প্রফেসর মোহাম্মদ আবুল কাশেম। তিনি তাঁর বক্তব্যে মাদকের ধ্বংসাত্মক প্রভাব তুলে ধরে বলেন, “মাদক শুধু একটি জীবন নয়, বরং একটি সম্ভাবনাকেও ধ্বংস করে দেয়। শিক্ষার্থীদের মেধা ও সৃজনশীলতা কাজে লাগিয়ে একটি উন্নত সমাজ গঠনে আমাদের সবাইকে একসাথে কাজ করতে হবে।”
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, ফেনী-এর সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ আব্দুল হামিদ। তিনি মাদকের স্বাস্থ্যঝুঁকি, সামাজিক প্রভাব এবং আইনি দিকগুলো বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন। পাশাপাশি মাদক নির্মূলে সামাজিক আন্দোলনের গুরুত্বের ওপর জোর দেন।
সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চেয়ারম্যান মুহাম্মদ আফসার উদ্দিন। তিনি বলেন, “মাদকাসক্তি একজন মানুষকে ধীরে ধীরে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয় এবং তাকে সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলে। তাই তরুণদের নিজেদের ভবিষ্যৎ রক্ষায় সচেতন হতে হবে এবং মাদক থেকে দূরে থাকতে হবে।”
সেমিনারে বিশ্ববিদ্যালয়ের শতাধিক শিক্ষার্থী স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন, যা পুরো আয়োজনকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে। অনুষ্ঠান শেষে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে একটি কুইজ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এতে পাঁচজন বিজয়ীকে পুরস্কৃত করা হয় এবং সকল অংশগ্রহণকারীকে শিক্ষা উপকরণ প্রদান করা হয়।
ফেনী ইউনিভার্সিটি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভবিষ্যতেও এ ধরনের সচেতনতামূলক কর্মসূচি অব্যাহত রাখা হবে, যাতে শিক্ষার্থীদের জন্য একটি নিরাপদ, স্বাস্থ্যকর এবং মাদকমুক্ত শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা যায়।