
টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে বিদেশে পাঠানোর নামে লক্ষাধিক টাকা আত্মসাৎ, দালাল আটক
আঃহালিম আতিক টাঙ্গাইল জেলা প্রতিনিধি
টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার মাইধারচালা এলাকায় বিদেশে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে আব্দুস সবুর নামের এক ব্যক্তিকে আটক করেছে স্থানীয়রা। আটককৃত আব্দুস সবুর টাঙ্গাইল জেলার কালিহাতি থানার পাইলমা গ্রামের বাসিন্দা।
ঘটনার প্রেক্ষাপট
দীর্ঘদিন ধরে আব্দুস সবুর এলাকার সহজ-সরল মানুষকে বিদেশ পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে আসছিলেন। তিনি বিভিন্ন ব্যক্তিকে বিদেশে ভালো চাকরি, ভিসা ও টিকিটের নিশ্চয়তা দিয়ে মোটা অংকের টাকা সংগ্রহ করেন। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, শুধু মাইধারচালা গ্রাম থেকেই তিনি কৌশলে ১৫ লক্ষাধিক টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এছাড়াও ঘাটাইল উপজেলার বিভিন্ন এলাকাসহ টাঙ্গাইলের অন্যান্য স্থান থেকেও তিনি একইভাবে অর্থ সংগ্রহ করেছেন বলে জানা গেছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ
বিদেশ যাওয়ার আশায় অনেকেই ভিটেমাটি বিক্রি, আবার কেউ চড়া সুদে ঋণ নিয়ে সর্বস্বান্ত হয়েছেন। ভুক্তভোগীদের মধ্যে ছাইফুল ইসলাম, বাবু এবং হুরমুজ আলীসহ একাধিক ব্যক্তি জানান, সবুর তাদের পাসপোর্ট, ভিসা ও টিকিটের ভুয়া কাগজপত্র দেখিয়ে দীর্ঘ সময় ঝুলিয়ে রেখেছেন। নির্ধারিত সময় পার হয়ে গেলেও বিদেশ যাত্রা নিশ্চিত না হওয়ায় ভুক্তভোগীরা বুঝতে পারেন তারা প্রতারণার শিকার হয়েছেন। টাকা ফেরতের জন্য বারবার তাগিদ দিলেও তিনি তালবাহানা শুরু করেন।
আটক ও বর্তমান পরিস্থিতি
অভিযুক্ত আব্দুস সবুরকে দীর্ঘদিন ধরে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। অবশেষে স্থানীয়রা তাকে খুঁজে বের করে আটক করে। তবে এলাকাবাসী জানান, তার সাথে কোনো ধরনের শারীরিক নির্যাতন করা হয়নি, বরং মানবিক আচরণ বজায় রেখে তাকে আটক রাখা হয়েছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, দ্রুত সময়ের মধ্যে তাদের আত্মসাৎ করা টাকা ফেরত পেতে হবে এবং প্রশাসনের মাধ্যমে এ ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
সচেতনতামূলক সতর্কতা
এলাকাবাসীর অভিমত, বিদেশে যাওয়ার ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের আরও বেশি সচেতন হওয়া প্রয়োজন। কোনো অসাধু দালাল বা চক্রের খপ্পরে না পড়ে, সরকারি অনুমোদনপ্রাপ্ত রিক্রুটিং এজেন্সি ও বৈধ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিদেশে যাওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
বর্তমানে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ বিরাজ করছে। প্রশাসনের সংশ্লিষ্টরা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করতে এবং লেনদেনের পরিমাণসহ বিস্তারিত বিষয়গুলো উদঘাটনে প্রয়োজনীয় তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে এলাকাবাসী আশাবাদী।