
মোঃ ইকবাল হোসেন, নরসিংদী।
দীর্ঘ প্রায় দুই মাসের ক্লান্তি ও স্থবিরতা কাটিয়ে অবশেষে স্বাভাবিক গতি ফিরতে শুরু করেছে নরসিংদীর শিল্পাঞ্চলগুলোতে। পাইপলাইনে গ্যাসের চাপ বৃদ্ধিতে শিল্পপ্রতিষ্ঠান, বাসাবাড়ি এবং সিএনজি পাম্প ব্যবহারকারীদের মাঝে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফিরে এসেছে। তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ আশা প্রকাশ করেছে যে, আগামী এক থেকে দুই দিনের মধ্যে জেলাজুড়ে গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়ে যাবে।
জানা যায়, চলতি বছরের ২১ জুলাই কক্সবাজারের মহেশখালী এলএনজি টার্মিনালে এক মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর থেকে নরসিংদীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে তীব্র গ্যাস সংকট দেখা দেয়। সম্প্রতি ক্ষতিগ্রস্ত টার্মিনালটি সফলভাবে সম্পূর্ণ মেরামত শেষে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ পুনরায় চালু করায় সার্বিক পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি ঘটতে শুরু করেছে।
গ্যাস সরবরাহ বৃদ্ধির সুবাদে নরসিংদী, মাধবদী ও চাউয়ালের ডাইং, টেক্সটাইল, স্পিনিং এবং সাইজিং মিলগুলোর মন্থর হয়ে পড়া চাকা আবার সচল হতে শুরু করেছে। স্থানীয় কারখানা শ্রমিকরা স্বস্তি প্রকাশ করে জানান, এতদিন গ্যাস সংকটে উৎপাদন চরমভাবে ব্যাহত ও সীমিত থাকায় মালিক ও শ্রমিক উভয়কেই গভীর অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে হয়েছিল। গ্যাসের চাপ বাড়ায় এখন কারখানাগুলো পূর্ণাঙ্গ উৎপাদনে ফেরার জোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। এটি কেবল শ্রমিকদের কর্মসংস্থান ও রুজি-রুটি রক্ষা করবে না, বরং স্থানীয় পরিবহন ও ব্যবসা-বাণিজ্য খাতগুলোতেও নতুন গতি ফিরিয়ে আনবে।
এ বিষয়ে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন লিমিটেড, নরসিংদীর ম্যানেজার মো: মাকসুদুর রহমান জানান পর্যাপ্ত গ্যাসের চাপ না থাকায় এতদিন এই অঞ্চলের ডাইং ও টেক্সটাইল খাত মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ও ব্যাহত হচ্ছিল। তবে জাতীয় গ্রিড থেকে সরবরাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় বর্তমানে পরিস্থিতির লক্ষণীয় উন্নতি হয়েছে। আশা করা যাচ্ছে, আগামী দুই-এক দিনের মধ্যে কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত হলে শিল্পকারখানাগুলো আগের মতো পুরোদমে উৎপাদনে ফিরতে পারবে।”