শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:০২ অপরাহ্ন
Title :
সুন্দরগঞ্জে মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ার আহ্বান সুবিপ্রবি ভিসির সঙ্গে সুনামগঞ্জ ও শান্তিগঞ্জের নেতৃবৃন্দের সাক্ষাৎ দীর্ঘ জীবনের জন্য নতুন ভাবনা শেরপুরে আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবসে র‍্যালি ও আলোচনা সভা তালায় ৩৬তম আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস পালিত ঠাকুরগাঁওয়ে ভ্যান চালকের বাড়িতে আগুন,পুড়ে ছাই প্রায় লাখ টাকার মালামাল। ফরিদপুরে আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস পালিত, মর্যাদাপূর্ণ বার্ধক্য নিশ্চিতের আহ্বান সৈয়দপুর পৌরসভার ৯২ কোটি ৭৬ লক্ষ টাকার বাজেট ঘোষণা লুৎফুর রহমানের মায়ের মৃত্যুতে এমপি কয়ছর এম আহমেদের গভীর শোক প্রধানমন্ত্রীর ফেনী সফর উপলক্ষে চান্দিনায় বিএনপির নেতাকর্মীদের শুভেচ্ছা আইনশৃঙ্খলা উন্নয়ন ও সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষায় ঢাকা জেলা পুলিশ ও হিজড়া সম্প্রদায়ের যৌথ আলোচনা সভা

খাদ্য-বাচ্চার দামে নাভিশ্বাস, সংকটে প্রান্তিক খামারি। উৎপাদন ব্যয় বাড়ায় বন্ধ হচ্ছে অনেক খামার

  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৬৩ Time View

মোঃ আনোয়ার পারভেজ কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি:

খাদ্য, ওষুধ, এক দিন বয়সী বাচ্চা, বিদ্যুৎ ও শ্রমিকের মজুরি—সবকিছুর দাম বাড়ায় পোল্ট্রি খাতে উৎপাদন ব্যয় বেড়েই চলেছে। অন্যদিকে সোনালি মুরগির বাজারদরে স্থিতিশীলতা না থাকায় সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েছেন প্রান্তিক খামারিরা। উৎপাদন খরচের তুলনায় কম দামে মুরগি বিক্রি করতে গিয়ে অনেক খামারিকে লোকসান গুনতে হচ্ছে। ঋণ ও দেনার চাপ সামাল দিতে না পেরে কেউ কেউ খামার বন্ধ করে দিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।খামারিদের দাবি, গত ছয় মাসে ৫০ কেজির এক বস্তা পোল্ট্রি খাদ্যের দাম প্রায় ৩৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এর সঙ্গে বাচ্চা, ঔষুধ, বিদ্যুৎ, শ্রমিকের মজুরি, জীবাণুনাশক ও পরিবহন ব্যয় যুক্ত হওয়ায় মুরগি উৎপাদনের মোট খরচ উল্লেখযোগ্য ভাবে বেড়েছে।এদিকে সোনালি মুরগির বাজারদরেও দেখা যাচ্ছে ওঠানামা। চলতি বছরের মার্চের মাঝামাঝি ঢাকার বাজারে প্রতি কেজি সোনালি মুরগি ৩১০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি হয়। এপ্রিলের শুরুতে সরবরাহ সংকট ও চাহিদা বৃদ্ধির কারণে দাম বেড়ে ৩৮০ থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত ওঠে। পরে এপ্রিলের শেষ দিকে তা কমে ৩৫০ থেকে ৩৬০ টাকায় নেমে আসে। আগস্টেও রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে প্রতি কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত দাম বাড়ার খবর পাওয়া যায়।তবে খুচরা বাজারে দাম বাড়লেও এর পুরো সুফল খামারিরা পান না বলে অভিযোগ রয়েছে। খামারিদের ভাষ্য, খামার পর্যায়ের বিক্রয়মূল্য এবং পাইকারি ও খুচরা বাজারদরের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে। ফলে ভোক্তা পর্যায়ে দাম বাড়লেও উৎপাদনকারীরা অনেক সময় কাঙ্ক্ষিত মূল্য পান না। বর্তমানে দাম কমে প্রান্তিক পর্যায়ে প্রতি কেজি সোনালী মুরগির দাম ২৬০ টাকা হইতে ২৬৫ টাকা।কুমিল্লার বিভিন্ন এলাকার প্রান্তিক খামারিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অনেকে স্থানীয় ডিলারের কাছ থেকে বাকিতে বাচ্চা ও খাদ্য নিয়ে খামার পরিচালনা করেন। বাজারদর কমে গেলে লোকসান সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। একপর্যায়ে ঋণ ও দেনার চাপ বাড়তে থাকায় অনেকেই খামার পরিচালনা অব্যাহত রাখতে হিমশিম খাচ্ছেন।পোল্ট্রি খাত নিয়ে প্রকাশিত বিভিন্ন গবেষণাতেও খাদ্যের মূল্য, আমদানিনির্ভর কাঁচামাল এবং বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হারের প্রভাবে উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়টি উঠে এসেছে।
খামারিদের আরও অভিযোগ, কন্ট্রাক্ট ফার্মিং ও কর্পোরেট কোম্পানি গুলোর প্রভাবের পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধ, খাদ্য ব্যবস্থাপনা ও আধুনিক খামার পরিচালনা বিষয়ে প্রাণিসম্পদ দপ্তরের প্রয়োজনীয় পরামর্শ সব এলাকায় সমানভাবে পাওয়া যায় না। রোগবালাই ও মৃত্যুহার বেড়ে গেলে উৎপাদন ব্যয় আরও বৃদ্ধি পায়।প্রান্তিক খামারিদের দাবি, পোল্ট্রি বাজারে নিয়মিত ও কার্যকর নজরদারি, খাদ্য ও বাচ্চার মূল্য নির্ধারণে স্বচ্ছতা এবং ডিলার ও মধ্যস্বত্বভোগীদের সরবরাহ ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণে কার্যকর নীতিমালা প্রয়োজন। একই সঙ্গে উৎপাদন ব্যয় ও বাজারদরের মধ্যে সমন্বয় না হলে ছোট ও মাঝারি খামারগুলো টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়তে পারে।খামারিদের আশঙ্কা, প্রান্তিক খামারগুলো ক্রমাগত বন্ধ হয়ে গেলে দেশের মুরগির মাংস ও ডিমের সরবরাহব্যবস্থায় চাপ তৈরি হতে পারে। এতে প্রাণিজ আমিষের বাজারেও এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2019 Breaking News
Theme Customized By BreakingNews