
মোহাম্মদ রায়হান ইসলাম উপজেলা প্রতিনিধি, টেকনাফ
কক্সবাজারের উখিয়ায় সীমান্ত দিয়ে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে প্রবেশের সময় ১ লাখ ৪০ হাজার পিস ইয়াবাসহ দুইজনকে আটক করেছে বিজিবি। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ভোরে উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪ বিজিবি)-এর অধীনস্থ পালংখালী বিওপির বিশেষ টহল দল অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে।বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোঃ জহিরুল ইসলাম।বিজিবি সূত্রে জানা যায়, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখ আনুমানিক ভোর ৫টা ১০ মিনিটে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পালংখালী বিওপির একটি বিশেষ টহল দল সীমান্তবর্তী আনজুমানপাড়া পানির পয়েন্টের উত্তর পাশে বাবুলের ঘেরের দক্ষিণ পাশের বেড়ির ওপর অবস্থান নেয়। এ সময় মিয়ানমার দিক থেকে দুই ব্যক্তিকে হাতে ব্যাগ নিয়ে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে দেখে বিজিবি সদস্যদের সন্দেহ হয়।টহল দল তাদের চ্যালেঞ্জ করলে তারা দৌড়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় বিজিবি সদস্যরা মোঃ নুর ইসলাম (২৫) ও মোঃ হারেস (২০) নামে দুইজনকে আটক করতে সক্ষম হন।আটক মোঃ নুর ইসলাম আনজুমানপাড়া এলাকার মৃত বশির আহমেদ ও মৃত লালমতির ছেলে। অপর আটক মোঃ হারেস উখিয়ার বালুখালী এফডিএমএন ক্যাম্প-১৫, ব্লক-এ/৭-এর বাসিন্দা।পরবর্তীতে আটক ব্যক্তিদের হাতে থাকা ব্যাগ তল্লাশি করে খাকি রঙের প্যাকেটে মোড়ানো নীল রঙের ১৪ কার্টন ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। গণনা করে উদ্ধার হওয়া ইয়াবার পরিমাণ দাঁড়ায় ১ লাখ ৪০ হাজার পিস।বিজিবির প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তিরা জানায়, তারা মিয়ানমার সীমান্ত থেকে ইয়াবা সংগ্রহ করে অধিক দামে বিক্রির উদ্দেশ্যে বহন করছিল।উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোঃ জহিরুল ইসলাম জানান, মাদক সরবরাহকারী ও এর সঙ্গে জড়িত চোরাকারবারিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে। সীমান্ত নিরাপত্তা রক্ষার পাশাপাশি চোরাচালান ও মাদক প্রতিরোধে বিজিবির অভিযান অব্যাহত থাকবে।তিনি আরও বলেন, সীমান্তে মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবি দৃঢ় অবস্থানে রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান চলমান থাকবে।উল্লেখ্য, কক্সবাজার রিজিয়নের রামু সেক্টরের অধীনে দায়িত্ব পালনকারী উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪ বিজিবি) দীর্ঘদিন ধরে সীমান্ত নিরাপত্তা রক্ষার পাশাপাশি মাদক ও বিভিন্ন ধরনের অবৈধ কার্যক্রম প্রতিরোধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে আসছে।