
অপু দাস, রাজশাহী ব্যুরো
ডেঙ্গু প্রতিরোধ, মশার প্রজননস্থল ধ্বংস এবং নগরজুড়ে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদারের লক্ষ্যে সারাদেশে শুরু হয়েছে তিন মাসব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান। এর অংশ হিসেবে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনেও নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।
শনিবার সকাল ৯টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় সারাদেশে একযোগে এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। উদ্বোধনী আয়োজনে দেশের সব সিটি কর্পোরেশন, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সংশ্লিষ্টরা অনলাইনের মাধ্যমে যুক্ত ছিলেন। রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনও অনলাইন সম্প্রচারের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নেয়।
এ উপলক্ষে শনিবার সকাল ৯টায় রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের নগর ভবনের গ্রিন প্লাজায় স্থানীয়ভাবে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটনসহ সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তা, বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও নগরীর গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অংশ নেন।
কেন্দ্রীয়ভাবে প্রধানমন্ত্রীর তিন মাসব্যাপী কর্মসূচির উদ্বোধনের পর রাজশাহী নগর ভবনের সামনে থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। র্যালিতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। র্যালিটি নগর ভবনের সামনে থেকে শুরু হয়ে দড়িখরবোনা মোড়, কাদিরগঞ্জ ও গ্রেটার রোড প্রদক্ষিণ করে পুনরায় নগর ভবন চত্বরে এসে শেষ হয়।
র্যালি শেষে নগর ভবন চত্বরে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন।
তিনি বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়নে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন প্রয়োজনীয় কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। নগরবাসীর মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে বিভিন্ন এলাকায় লিফলেট বিতরণ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে নগরীর পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম ও মশক নিধন অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে।
রাসিক প্রশাসক বলেন, তিন মাসব্যাপী এই কর্মসূচির আওতায় পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। ডেঙ্গুর বিস্তার ঠেকাতে সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। ডেঙ্গুমুক্ত ও পরিচ্ছন্ন মহানগরী গড়ে তুলতে নগরবাসীর সহযোগিতাও প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, শুধু সিটি কর্পোরেশনের একক উদ্যোগে ডেঙ্গু প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়। এ জন্য নগরবাসীকেও নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল হতে হবে। প্রতিটি বাসাবাড়ি, প্রতিষ্ঠান ও তার আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখতে হবে। কোথাও যাতে বৃষ্টির পানি বা অন্য কোনোভাবে পানি জমে না থাকে এবং সেখানে এডিস মশার প্রজননস্থল তৈরি না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
মাহফুজুর রহমান রিটন বলেন, বাড়ির ছাদ, বারান্দা, ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র, ডাবের খোসা, নির্মাণাধীন ভবনসহ যেসব স্থানে পানি জমে থাকতে পারে, সেসব স্থান নিয়মিত পরিষ্কার করা জরুরি। নগরবাসী সচেতনভাবে নিজেদের বাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখলে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সিটি কর্পোরেশনের কার্যক্রম আরও কার্যকর হবে।
অনুষ্ঠানে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার ফারুক হোসেন, বিএনসিসি মহাস্থান রেজিমেন্টের কমান্ডার লে. কর্ণেল গোলাম কবির, রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম, সিটি কর্পোরেশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কাউন্সিলর ও আরএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার মো. গাজিউর রহমানসহ অন্যান্য কাউন্সিলর উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া অনুষ্ঠানে মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি নজরুল হুদা, সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট আলী আহসান মাসুম, সহ-সভাপতি জয়নাল আবেদীন, সাংগঠনিক সম্পাদক রবিউল আলম মিলু, সদস্য অ্যাডভোকেট মাইনুল আহসান পান্না, মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক শরিফুল ইসলাম জনি, স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব আসাদ্দুজ্জামান জনি, জাসাস মহানগরের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট রজব আলী, সদস্য সচিব সেলিম রেজা, ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক খালিদ বিন ওয়ালিদ আবির এবং ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর মনিরুজ্জামান শরীফসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের সচিব মো. সোহেল রানা, স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. ফয়সল তারেক, প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা শেখ মো. মামুন, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী খায়রুল বাকের, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) আহমদ আল মঈন পরাগ, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. এফ.এ.এম আঞ্জুমান আরা বেগম, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা আবু সালেহ মো. নূর-ঈ সাঈদ, বাজেট কাম হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম খান, নির্বাহী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) এবিএম আসাদুজ্জামান সুইট, নির্বাহী প্রকৌশলী (উন্নয়ন) মো. মাহমুদুর রহমান এবং নির্বাহী প্রকৌশলী (পরিকল্পনা) জসীম উদ্দিন আরজুসহ সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা ছাড়াও বিএনসিসি, স্কাউট, গার্লস গাইডস ও বিডি ক্লিনের সদস্যরা কর্মসূচিতে অংশ নেন। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী এবং নগরীর গণ্যমান্য ব্যক্তিরাও এতে উপস্থিত ছিলেন।
কর্মসূচির মাধ্যমে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম আরও জোরদার, মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল চিহ্নিত ও ধ্বংস এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। তিন মাসজুড়ে ধারাবাহিকভাবে এসব কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে রাজশাহী মহানগরীকে ডেঙ্গুর ঝুঁকি থেকে সুরক্ষিত রাখতে সিটি কর্পোরেশন কাজ করবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।