শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১০:০৪ অপরাহ্ন
Title :
কক্সবাজার জেলা সাধারণ সম্পাদক ও সহ-সাধারণ সম্পাদকের পিতার ইন্তেকাল গবভীর শোক ও মাগফিরাত কামনা শান্তিগঞ্জের সুলতানপুরে রক্তদাতাদের সম্মানে আলোচনা সভা ও ক্রেস্ট বিতরণ চার বছর আগের অঙ্গীকার ও আরডিএর নির্দেশ অমান্য করে ছাদ সম্প্রসারণের অভিযোগ দুর্গম কুরুকপাতায় আলীকদম জোনের দিনব্যাপী চিকিৎসাসেবা সাটুরিয়া বাসস্ট্যান্ডে অস্থায়ী কাঁচাবাজারের জায়গা স্থায়ী ব্যবসায়ীদের দখলে সর্দি-কাশি প্রতিরোধে যেসব মৌসুমি ফল খাবেন মেনোপজের পর রক্তপাত হতে পারে জরায়ুর ক্যানসারের সতর্কসংকেত রাজশাহীতে ‘অপ-সাংবাদিকতা’ বন্ধে ব্যবস্থা চেয়ে ভূমিমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা ঠাকুরগাঁওয়ের শিশু ধর্ষণের অভিযোগে কিশোর গ্রেপ্তার নকলায় উলামা ঐক্য পরিষদের কমিটি গঠন

দোয়ারাবাজারে অধ্যক্ষ রফিজ আলীর অপসারণ দাবিতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

  • Update Time : মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬
  • ৫২ Time View

সাইফুল আলম দোয়ারাবাজার উপজেলা সুনামগঞ্জ

সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার পান্ডারগাঁও ইউনিয়নের হাজী কনু মিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ রফিজ আলীর অপসারণের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন শিক্ষার্থীরা। এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানজুড়ে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সোমবার (২৪ আগস্ট) সকালে শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন করে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ শুরু করে। পরে অধ্যক্ষের অপসারণসহ বিভিন্ন দাবিতে তারা বিক্ষোভ মিছিল বের করে। এ সময় শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন স্লোগানে প্রতিষ্ঠান প্রাঙ্গণ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে অধ্যক্ষসহ কয়েকজন শিক্ষকের দায়িত্বে অবহেলা অনিয়মিত পাঠদান, শিক্ষক সংকট এবং প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনার কারণে প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এসব বিষয়ে একাধিকবার অভিযোগ জানানো হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি শিক্ষার্থীদের। এরই পরিপ্রেক্ষিতে তারা ক্লাস বর্জন করে আন্দোলনে নামে। শিক্ষার্থীদের একাডেমিক অভিযোগ শিক্ষার্থীদের লিখিত অভিযোগে বলা হয়, প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত সব বিষয়ের ক্লাস সময়মতো অনুষ্ঠিত হয় না এবং নির্ধারিত ক্লাস রুটিন যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে না। উচ্চতর গণিতসহ কয়েকটি বিষয়ে নিয়মিত ক্লাস না হওয়ার অভিযোগও রয়েছে। এ ছাড়া নবম ও দশম শ্রেণির বিভিন্ন বিষয়ে পর্যাপ্ত শিক্ষক না থাকায় পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে বলে দাবি শিক্ষার্থীদের। তাদের অভিযোগ কিছু বিষয়ে একজন শিক্ষক দিয়ে একাধিক বিষয়ের পাঠদান পরিচালনার চেষ্টা করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা আরও অভিযোগ করে, অধ্যক্ষ তাঁর নির্ধারিত নিয়মিত ক্লাসগুলো যথাযথভাবে নেন না। পাশাপাশি বিজ্ঞানের গুরুত্বপূর্ণ ব্যবহারিক ও ল্যাব ক্লাস এবং অতিরিক্ত পাঠদান কার্যক্রমও নিয়মিত পরিচালিত হচ্ছে না। এতে শিক্ষার মান ও পরীক্ষার ফলাফলে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে তাদের দাবি। পরীক্ষা ও শিক্ষার্থী ব্যবস্থাপনা নিয়ে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, শ্রেণিকক্ষে পাঠদান যথাযথভাবে সম্পন্ন না করেই অতিরিক্ত অ্যাসাইনমেন্টের চাপ দেওয়া হচ্ছে। পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য টেস্ট কোচিং চালুর দাবিও জানিয়েছে তারা। তাদের দাবি, শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রস্তুতি ও একাডেমিক অগ্রগতি পর্যবেক্ষণে আরও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন। প্রশাসনিক ও আর্থিক বিষয়ে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের অভিযোগে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা কার্যক্রম ও শৃঙ্খলা ব্যবস্থাপনায় কার্যকর মনিটরিংয়ের ঘাটতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি অতিরিক্ত বেতন ও অসংগতিপূর্ণ জরিমানা আদায়ের অভিযোগও তুলেছে তারা। এ নিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে বলে দাবি করা হয়। এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী ও দপ্তরীদের স্বাভাবিক দায়িত্ব পালনে অনাকাঙ্ক্ষিত প্রভাব বিস্তারের অভিযোগও শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে করা হয়েছে। শিক্ষকদের আচরণ নিয়েও অভিযোগ শিক্ষার্থীদের অভিযোগে কয়েকজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের ওপর ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের চেষ্টার অভিযোগ তোলা হয়েছে। এ ছাড়া জয়লাল নামের এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে এক শিক্ষার্থীকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে শ্রেণিকক্ষ থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ এবং কালাম নামের এক কর্মচারীর বিরুদ্ধে ছাত্রীদের ওজু করার সময় ছবি তোলা ও হয়রানি করার অভিযোগও করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের কোনোটিই স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। অভিযোগগুলোর বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক ও কর্মচারীদের বক্তব্যও তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। বৈঠকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা এদিকে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আজীবন দাতা সদস্য ও ভূমিদাতা শরিয়ত আলী তালুকদার স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও বিশিষ্ট মুরব্বিদের নিয়ে জরুরি বৈঠকের আয়োজন করেন। বৈঠকে তিনি সভাপতিত্ব করেন। দীর্ঘ আলোচনা ও পর্যালোচনার পর শিক্ষার্থীদের শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রাখার বিষয়ে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে একটি তারিখও নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। শরিয়ত আলী তালুকদার বলেন প্রতিষ্ঠানের কিছু শিক্ষকের দায়িত্বে অবহেলার কারণে আজ এ ধরনের পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। অধ্যক্ষসহ কয়েকজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের নানা অভিযোগ রয়েছে। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের কারণে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল তাৎক্ষণিকভাবে উদ্যোগ নিয়ে তা কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। তিনি আরও বলেন প্রতিষ্ঠানের বৃহত্তর স্বার্থে এলাকার সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা নিয়ে সমস্যার স্থায়ী সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ও প্রতিষ্ঠানে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ফিরিয়ে আনাই আমাদের মূল লক্ষ্য। তিনি প্রশাসনের প্রতি অধ্যক্ষ রফিজ আলীর দায়িত্বের বিষয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের স্বার্থে অধ্যক্ষকে দায়িত্ব থেকে অপসারণের বিষয়টি দ্রুত বিবেচনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানান। তবে শিক্ষার্থীদের উত্থাপিত অভিযোগ ও অধ্যক্ষের অপসারণের দাবির বিষয়ে অধ্যক্ষ রফিজ আলী কে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন আমি এখন কোন কিছু বলতে পারবোনা আগামী কাল এলাকা বাসীর উদ্যোগে জরুরি মিটিং আছে মিটিং শেষে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলতে পারবো এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষক কর্মচারীদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে। এদিকে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির সার্বিক শিক্ষা কার্যক্রম প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা ও শিক্ষার পরিবেশ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয় অভিভাবক ও এলাকাবাসী বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত এবং শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক শিক্ষা পরিবেশ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2019 Breaking News
Theme Customized By BreakingNews