
মোঃ মাহবুবুল আলম, বিভাগীয় ব্যুরো ময়মনসিংহ।
পরিশ্রম ধৈর্য ও আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির সমন্বয়ে মধু চাষ করে সফলতার মুখ দেখছেন ময়মনসিংহ জেলার ভালুকা থানার পাঁচগাও গ্রামের উদ্যোক্তা শাখাওয়াত হোসেন। ২০১৭ সাল থেকে মৌমাছি পালন ও মধু সংগ্রহকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করে তিনি যেমন নিজের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছেন, তেমনি অন্যদেরও মধু চাষে আগ্রহী করে তুলছেন।
শাখাওয়াত হোসেন জানান, শুরুতে মধু চাষ নিয়ে নানা ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হলেও ধীরে ধীরে অভিজ্ঞতা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে তিনি এ কাজে দক্ষতা অর্জন করেছেন। বর্তমানে মধু উৎপাদন কারী ৩০০ টি মৌবক্স রয়েছে।বিভিন্ন ফুলের মৌসুমে মৌবাক্স স্থাপন করে মৌমাছির মাধ্যমে মধু সংগ্রহ করছেন তিনি। উৎপাদিত মধু স্থানীয়ভাবে ৬০০ থেকে কেজি প্রতি ১৩০০ টাকা দরে বিক্রির পাশাপাশি পরিচিত ক্রেতাদের কাছেও পৌঁছে দিচ্ছেন।
তিনি বলেন, “মধু চাষে পরিশ্রমের পাশাপাশি ধৈর্য ও সঠিক পরিচর্যা প্রয়োজন। মধুপুর , টাঙ্গাইল পঞ্চগড় সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে তিনি মধু সংগ্রহ করতে মৌমাছি নিয়ে ঘুরে বেড়ান।পরিকল্পিতভাবে কাজ করলে এ খাত থেকে ভালো আয় করা সম্ভব। তরুণরা চাইলে মধু চাষকে কর্মসংস্থানের একটি ভালো মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করতে পারে। স্থানীয়রা জানান, শাখাওয়াত হোসেনের মধু চাষের উদ্যোগ এলাকায় ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। তার সাফল্য দেখে অনেকেই মৌমাছি পালন ও মধু চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।
কৃষি সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, মধু চাষ পরিবেশবান্ধব ও লাভজনক একটি উদ্যোগ। প্রশিক্ষণ, কারিগরি সহযোগিতা ও বাজারজাতকরণের সুযোগ বাড়ানো গেলে দেশের বিভিন্ন এলাকায় মধু উৎপাদন আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। শাখাওয়াত হোসেনের স্বপ্ন মধু চাষকে আরও সম্প্রসারণ করে নিজে স্বাবলম্বী হওয়ার পাশাপাশি অন্যদের জন্যও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা।