
অপু দাস, রাজশাহী ব্যুরো
রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলায় মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ দেশীয়ভাবে প্রস্তুত চোলাই মদ উদ্ধার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-৫-এর সিপিএসসি দল। অভিযানে মোট ৪৫ লিটার ২৫০ মিলিলিটার চোলাই মদ উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় র্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে মদ সংরক্ষণের সঙ্গে জড়িত তিন ব্যক্তি পালিয়ে যায়।র্যাব-৫-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং অপরাধ নিয়ন্ত্রণে র্যাব শুরু থেকেই বিভিন্ন ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে আসছে। সন্ত্রাস, সংঘবদ্ধ অপরাধ, মাদক, অবৈধ অস্ত্র, ছিনতাইসহ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য হুমকি সৃষ্টি করে এমন অপরাধের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে।এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখ বিকেল ৩টা ৪৫ মিনিটের দিকে রাজশাহীর মোহনপুর থানা এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে র্যাব-৫। সিপিএসসি, র্যাব-৫, রাজশাহীর একটি বিশেষ আভিযানিক দল মোহনপুর থানার ঘাসিগ্রাম ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসপুকুর গ্রামে এ অভিযান চালায়।র্যাবের তথ্য অনুযায়ী, বাসপুকুর গ্রামের নরেশ, রঞ্জিত ও রিপনের বসতবাড়িতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান চলাকালে র্যাব সদস্যদের উপস্থিতি বুঝতে পেরে ওই তিন ব্যক্তি ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরে তাদের পৃথক পৃথক বসতবাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়।তল্লাশির একপর্যায়ে বাড়িগুলোর রান্নাঘর থেকে দেশীয়ভাবে তৈরি চোলাই মদ পাওয়া যায়। পরে নিরপেক্ষ সাক্ষীদের উপস্থিতিতে উদ্ধার করা মাদকদ্রব্যের পরিমাণ নির্ধারণ করে তা বিধি অনুযায়ী জব্দ করা হয়।র্যাব জানায়, অভিযানে সর্বমোট ৪৫ লিটার ২৫০ মিলিলিটার দেশীয় তৈরি চোলাই মদ উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার করা মদ ২৫০ মিলিলিটার ধারণক্ষমতার মোট ১৮০টি বোতলে রাখা ছিল। মাদকদ্রব্যগুলো যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে জব্দ করা হয়েছে।অভিযানে যাদের বাড়ি থেকে মাদক উদ্ধার হয়েছে, তারা হলেন—বাসপুকুর গ্রামের নরেশ (৩০), তার বাবার নাম মঙ্গল; রঞ্জিত (৩৩), তার বাবার নাম সুকুলাল এবং রিপন (৩২)। রিপনের বাবার নাম জানা যায়নি।র্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে তিনজনই ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যাওয়ায় তাদের আটক করা সম্ভব হয়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। তবে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে।উদ্ধার করা চোলাই মদ পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মোহনপুর থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। একই সঙ্গে পলাতক তিন ব্যক্তির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মোহনপুর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।র্যাব-৫ জানিয়েছে, মাদকের বিস্তার রোধে তাদের অভিযান নিয়মিতভাবে চলমান রয়েছে। মাদক উৎপাদন, সংরক্ষণ, পরিবহন ও বিক্রির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে গোয়েন্দা নজরদারির পাশাপাশি অভিযান অব্যাহত রাখা হবে।