
পুরোনো মোটরসাইকেল কেনার ‘মাশুল’ দিচ্ছেন সোহাগ
মোঃ আজাদ হোসেন নিপুঃ- জামালপুর জেলা প্রতিনিধি:
চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধারের ঘটনায় জামালপুরে যুবদল নেতা রবিউল হাসান সোহাগকে গ্রেপ্তারের পর তাকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা আলোচনা ও সমালোচনা চলছে। তবে সংশ্লিষ্ট ঘটনা, মামলার নথি এবং মোটরসাইকেলটির মালিকানা সংক্রান্ত তথ্য নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্নও উঠেছে।
গত ২৬ সেপ্টেম্বর জামালপুর জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) একটি চোরাই মোটরসাইকেল সংক্রান্ত ঘটনায় রবিউল হাসান সোহাগকে আটক/গ্রেপ্তার করে। পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে জামালপুর জেলা যুবদল তাকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।
সোহাগের স্বজন ও পরিচিতদের দাবি, তিনি প্রায় চার বছর আগে একটি পুরোনো মোটরসাইকেল কিনেছিলেন। বিক্রেতা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দিতে না পারায় পরবর্তীতে তিনি মোটরসাইকেলটি অন্যত্র বিক্রি করে দেন। দীর্ঘ সময় পর গোয়েন্দা পুলিশের একটি মামলার তদন্তে ওই মোটরসাইকেলটি চোরাই চক্রের চুরি করা মোটরসাইকেলের তালিকায় থাকার তথ্য সামনে আসে। এর পরিপ্রেক্ষিতেই সোহাগকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে তারা দাবি করেন।
তাদের ভাষ্য, সোহাগের বিরুদ্ধে মোটরসাইকেল চুরির সরাসরি অভিযোগ নেই এবং কোনো মোটরসাইকেল মালিকও তার বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগে মামলা করেননি। বরং তিনি মোটরসাইকেলটি কোথা থেকে কিনেছিলেন, কেনার সময় তিনি সেটি চোরাই বলে জানতেন কি না এবং পরবর্তীতে সেটি কীভাবে হাতবদল হয়েছে—এসব বিষয় তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।
সোহাগের পক্ষের লোকজন আরও বলছেন, একটি পুরোনো মোটরসাইকেল কেনার সময় যদি প্রকৃত মালিকানা বা কাগজপত্র যাচাইয়ে ঘাটতি থেকে থাকে, তাহলে সেটির আইনগত দায় নির্ধারণের ক্ষেত্রে তার জ্ঞাতসারে কোনো অপরাধে সম্পৃক্ততা ছিল কি না, সেটিও বিবেচনায় নেওয়া জরুরি। কারণ শুধু কোনো চোরাই মালামাল কারও কাছে পাওয়া বা অতীতে তার মালিকানায় থাকা—এ তথ্যের ভিত্তিতে ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে তদন্তের পূর্ণাঙ্গ ফলাফল জানা প্রয়োজন।
সোহাগের পরিচিতজনদের দাবি, তিনি সাধারণ ও স্পষ্টভাষী মানুষ হিসেবে এলাকায় পরিচিত। তার কোনো আচরণে কেউ ক্ষুব্ধ হয়ে থাকলেও সেটির বিচার বা সমালোচনা আলাদা বিষয়। কিন্তু চোরাই মোটরসাইকেল সংক্রান্ত ঘটনায় তার প্রকৃত ভূমিকা কী ছিল, তিনি মোটরসাইকেলটি চোরাই বলে জানতেন কি না এবং তিনি কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর তদন্তেই বেরিয়ে আসা উচিত।
এদিকে স্থানীয়দের কেউ কেউ বলছেন, অভিযোগ প্রমাণের আগে কাউকে সামাজিকভাবে ‘চোর’ হিসেবে চিহ্নিত করা ন্যায়বিচারের নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। আদালতে অভিযোগের প্রমাণ ও মামলার নথির ভিত্তিতেই শেষ পর্যন্ত দায় নির্ধারিত হবে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আইনের অন্যতম মৌলিক নীতি হলো—দোষী ব্যক্তি যেন শাস্তি পায়, কিন্তু কোনো নির্দোষ ব্যক্তি যেন অন্যায়ভাবে শাস্তির শিকার না হন। তাই সোহাগের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের পাশাপাশি তার পক্ষে থাকা তথ্য, মোটরসাইকেল কেনাবেচার ইতিহাস, সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র এবং মামলার নথিও নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
তবে সোহাগের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার ধারা, এজাহারে তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ, ডিবির বক্তব্য, জেলা যুবদলের বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত এবং আদালতে মামলার বর্তমান অবস্থাসহ সংশ্লিষ্ট নথি যাচাই না করে তাকে নির্দোষ বা দোষী—কোনোটিই চূড়ান্তভাবে বলা সমীচীন নয়। তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ায় প্রকৃত ঘটনা স্পষ্ট হওয়ার অপেক্ষাই এখন গুরুত্বপূর্ণ।