
সিংগাইরে টায়ার পোড়ানোর ভয়াবহতা: পরিবেশ মারাত্মক ঝুঁকিতে
গ্রীন এনার্জিকে ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড, স্থাপনা সরানোর নির্দেশ
সাইফুর রহমান, সিংগাইর, মানিকগঞ্জ
মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার ধল্লা এলাকায় অবৈধভাবে টায়ার পোড়ানোর মাধ্যমে বায়ুদূষণ ও পরিবেশের ক্ষতি করার দায়ে গ্রীন এনার্জি নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির স্থাপনা অতিদ্রুত সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
২৮ সেপ্টেম্বর সকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার ধল্লা এলাকায় সকাল ১১ টায় এ অভিযান পরিচালনা করেন সিংগাইর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ আল-আমিন কবির। অভিযানের সময় টায়ার পোড়ানোর কার্যক্রম দেখতে পেয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
অভিযান সূত্রে জানা যায়, টায়ার পুড়িয়ে বায়ুদূষণ ও পরিবেশের ক্ষতি করার দায়ে বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ (সংশোধিত ২০১০) এবং বায়ুদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা, ২০২২-এর বিধি ৮(১) লঙ্ঘনের দায়ে গ্রীন এনার্জিকে ১,০০,০০০ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির সকল স্থাপনা অতিদ্রুত সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
টায়ার পোড়ানোর ফলে সৃষ্ট কালো ধোঁয়া ও দূষিত বায়ু শুধু পরিবেশের জন্য নয়, আশপাশের মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাপন ও জনস্বাস্থ্যের জন্যও উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে বসতবাড়ি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও জনবহুল এলাকার আশপাশে এ ধরনের কার্যক্রম পরিবেশগত ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, টায়ার পোড়ানোর ফলে এলাকায় কালো ধোঁয়া ও দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছিল। এতে পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি স্থানীয়দের মধ্যে স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়। পরিবেশ রক্ষায় প্রশাসনের এ ধরনের অভিযানকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
অভিযান পরিচালনাকারী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ আল-আমিন কবির বলেন, “পরিবেশ দূষণকারী যত ক্ষমতাধরই হোক না কেন, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। পরিবেশ রক্ষায় এ ধরনের অভিযান উপজেলা পর্যায়ে অব্যাহত থাকবে।”
পরিবেশ রক্ষায় সচেতনতার পাশাপাশি আইন মেনে শিল্প ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল। তাদের মতে, উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি নির্মল বায়ু, নিরাপদ পরিবেশ এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষাকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে।
পরিবেশ সবার—তাই পরিবেশ রক্ষার দায়িত্বও সবার। বায়ুদূষণ সৃষ্টিকারী কার্যক্রমের বিরুদ্ধে প্রশাসনের নজরদারি ও আইনানুগ ব্যবস্থা অব্যাহত থাকলে স্থানীয় পর্যায়ে পরিবেশ সুরক্ষায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন এলাকাবাসী।