শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৩৫ অপরাহ্ন
Title :
সুন্দরগঞ্জে মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ার আহ্বান সুবিপ্রবি ভিসির সঙ্গে সুনামগঞ্জ ও শান্তিগঞ্জের নেতৃবৃন্দের সাক্ষাৎ দীর্ঘ জীবনের জন্য নতুন ভাবনা শেরপুরে আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবসে র‍্যালি ও আলোচনা সভা তালায় ৩৬তম আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস পালিত ঠাকুরগাঁওয়ে ভ্যান চালকের বাড়িতে আগুন,পুড়ে ছাই প্রায় লাখ টাকার মালামাল। ফরিদপুরে আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস পালিত, মর্যাদাপূর্ণ বার্ধক্য নিশ্চিতের আহ্বান সৈয়দপুর পৌরসভার ৯২ কোটি ৭৬ লক্ষ টাকার বাজেট ঘোষণা লুৎফুর রহমানের মায়ের মৃত্যুতে এমপি কয়ছর এম আহমেদের গভীর শোক প্রধানমন্ত্রীর ফেনী সফর উপলক্ষে চান্দিনায় বিএনপির নেতাকর্মীদের শুভেচ্ছা আইনশৃঙ্খলা উন্নয়ন ও সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষায় ঢাকা জেলা পুলিশ ও হিজড়া সম্প্রদায়ের যৌথ আলোচনা সভা

কুড়িগ্রামে বন্যার পানি নামতেই ভেসে উঠছে ফসলের ক্ষতচিহ্ন, দিশেহারা কৃষকদের কান্নায় ভারী হচ্ছে আকাশ

  • Update Time : সোমবার, ৬ জুলাই, ২০২৬
  • ১৯০ Time View
কুড়িগ্রামে বন্যার পানি কমলেও মাঠে মাঠে জেগে উঠছে ফসলের ক্ষতচিহ্ন। ছবি: প্রভাতী বাংলাদেশ

মোঃ মাজহারুল ইসলাম, কুড়িগ্রাম:

উত্তরাঞ্চলের সীমান্তঘেঁষা জেলা কুড়িগ্রামে সাম্প্রতিক বন্যার পানি ধীরগতিতে নামতে শুরু করেছে। নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার নিচে চলে আসায় প্লাবিত এলাকাগুলো থেকে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে ঠিকই, কিন্তু পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে মাঠজুড়ে স্পষ্ট হয়ে উঠছে কৃষকদের বুকফাটা কান্নার চিত্র। দীর্ঘ সময় ধরে বন্যার পানিতে তলিয়ে থাকা জমি থেকে পানি সরে যাওয়ার পর এখন ভেসে উঠছে নষ্ট ও পচে যাওয়া ফসলের ক্ষতচিহ্ন। সবুজ শস্যক্ষেতগুলো এখন বিবর্ণ, ধূসর রূপ ধারণ করেছে। বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে এখন কেবলই কৃষকদের হতাশা আর অনিশ্চয়তা। এক মৌসুমের হাড়ভাঙা খাটুনি আর পুঁজি হারিয়ে ক্ষয়ক্ষতির হিসাব কষে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কুড়িগ্রামের হাজার হাজার কৃষক। রোববার (৫ জুলাই) জেলার ব্রহ্মপুত্র, ধরলা, তিস্তা ও দুধকুমারসহ বিভিন্ন নদ-নদীর অববাহিকা ও চরাঞ্চল ঘুরে দেখা গেছে বন্যার তাণ্ডবের চাক্ষুষ প্রমাণ। উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল আর টানা বৃষ্টিতে প্লাবিত হওয়া আবাদি জমিগুলোর পটল, মরিচ, বেগুন, আমনের বীজতলা, পাটসহ বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অনেক কৃষক চড়া সুদে ঋণ নিয়ে কিংবা এনজিও থেকে লোন নিয়ে বুকভরা আশা বুক বেঁধে চাষাবাদ করেছিলেন। কিন্তু প্রথম দফার এই বন্যাতেই তাদের সেই সোনালী স্বপ্ন চোখের পলকে ধূলিসাৎ হয়ে গেছে।

বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে চরাঞ্চল ও নদী তীরবর্তী নিচু এলাকার সবজি চাষিরা। পানি নেমে যাওয়ার পর দেখা যাচ্ছে, পটলের গাছগুলো পচে মাটিতে মিশে গেছে, মরিচ ও বেগুনের ক্ষেত শুকিয়ে মরে যাচ্ছে। এছাড়া আমন ধান চাষের জন্য কৃষকেরা যে বীজতলা তৈরি করেছিলেন, তা দীর্ঘ সময় পানির নিচে থাকায় সম্পূর্ণ পচে নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে আগামীতে আমন চাষ নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তারা। কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার পাঁচগাছী ইউনিয়নের শুলকুর বাজার এলাকার ভুক্তভোগী কৃষক আব্দুল খালেক আক্ষেপ করে বলেন, “বন্যার পানিতে আমার কয়েক বিঘা জমির বিভিন্ন ধরনের সবজি পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে। ঋণ করে টাকা খাটিয়েছিলাম এই জমিতে। এখন বাজারে সবজি বেচে ঋণের টাকা শোধ করব কী, নিজের পরিবারের মুখে অন্ন জোগানোই কঠিন হয়ে পড়েছে। এত বড় ক্ষতির পর কী করব, কীভাবে আবার শুরু করব—কিছুই বুঝতে পারছি না। খুব দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে।

একই এলাকার আরেক প্রান্তিক কৃষক আবু বকর তার পচে যাওয়া ক্ষেত দেখিয়ে বলেন, “আমার বেগুন ও পটলের ক্ষেত সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। পানি যখন জমিতে উঠেছিল, তখন ভেবেছিলাম দু-একদিন পর নেমে গেলে হয়তো ফসল বাঁচানো যাবে। কিন্তু পানি দীর্ঘস্থায়ী হওয়ায় সব শেষ। এখন সরকার যদি আমাদের বিনামূল্যে বীজ, সার আর পাশে না দাঁড়ায়, তাহলে আবার আমাদের মতো গরিব কৃষকদের ঘুরে দাঁড়ানো কোনোভাবেই সম্ভব হবে না।” বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর কৃষকদের ভেঙে না পড়ে বিকল্প উপায়ে ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে স্থানীয় কৃষি বিভাগ। কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, পানি নেমে যাওয়ার পর কৃষকরা যদি দ্রুত ব্যবস্থা নেন, তবে কিছুটা ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব। তিনি বলেন, “যেসব জমি থেকে পানি নেমে গেছে, সেখানে কৃষকেরা নতুন করে মরিচ, বেগুন, শসা ও বিভিন্ন ধরনের দ্রুত বর্ধনশীল শাক জাতীয় ফসল চাষ করতে পারেন। আর যদি কোনো কারণে তা সম্ভব না হয়, তবে এই সময়ে মাসকলাই চাষ একটি অত্যন্ত লাভজনক বিকল্প হতে পারে।”

উপ-পরিচালক আরও সতর্ক করে দিয়ে বলেন, যেহেতু বর্ষা মৌসুম এখনও শেষ হয়নি এবং আবারও বন্যা হওয়ার একটা আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না, তাই কৃষকদের এখন থেকেই সচেতন হতে হবে। বিশেষ করে আমন ধানের বীজতলা করার জন্য নিচু জমি পরিহার করে তুলনামূলক উঁচু জমি নির্বাচন করতে হবে, যাতে পরবর্তী বন্যায় বীজতলা ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। তবে তিনি আশার কথা শুনিয়ে বলেন, জেলার পাটের গাছগুলো ইতোমধ্যে বেশ বড় হয়ে গেছে, তাই পাটের ক্ষেত্রে এই বন্যায় তেমন বড় কোনো ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা নেই। কুড়িগ্রাম জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে প্রাপ্ত প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক এই আকস্মিক বন্যায় জেলায় প্রায় ৫০০ হেক্টর জমির বিভিন্ন ধরনের ফসল ও সবজি আংশিক বা সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির এই পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কারণ প্রত্যন্ত চরাঞ্চলের অনেক জমির তথ্য এখনো চূড়ান্ত তালিকায় যুক্ত হয়নি। বর্তমানে মাঠপর্যায়ে কৃষি উপ-সহকারী কর্মকর্তারা ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ ও প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা নির্ধারণে কাজ করে যাচ্ছেন।

এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দাবি, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এড়িয়ে দ্রুত ক্ষয়ক্ষতির তালিকা সম্পন্ন করা হোক। তারা চান অতি দ্রুত তাদের হাতে সরকারি কৃষি প্রণোদনা, উন্নতমানের বিনামূল্যে বীজ, সার ও প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হোক। কৃষকদের মতে, আমন মৌসুমের সময় ফুরিয়ে যাওয়ার আগেই যদি তারা বীজ ও সার না পান, তবে নতুন করে চাষাবাদ শুরু করা অনেকের পক্ষেই সম্ভব হবে না। ফলে জেলাজুড়ে খাদ্য ঘাটতির আশঙ্কাও দেখা দিতে পারে। কৃষকদের এই সংকটের বিষয়ে কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, “আমরা বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখছি। আর মাত্র দুই-এক দিনের মধ্যেই মাঠপর্যায়ের ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন আমাদের হাতে চলে আসবে। প্রতিবেদন পাওয়া মাত্রই আমরা প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত ও প্রান্তিক কৃষকদের একটি তালিকা তৈরি করব। এরপর তাদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সরকারি জরুরি প্রণোদনা ও পুনর্বাসন কর্মসূচির আওতায় এনে বীজ ও সার বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হবে, যাতে তারা দ্রুত এই ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারেন।”

কুড়িগ্রামের অর্থনীতি মূলত কৃষির ওপর নির্ভরশীল। তাই এই বন্যার ধাক্কা সামলে কৃষকেরা যদি আবার মাঠে ফিরতে না পারেন, তবে গ্রামীণ অর্থনীতিতে বড় ধরনের ধস নামার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। উত্তরাঞ্চলের সীমান্তঘেঁষা জেলা কুড়িগ্রামে সাম্প্রতিক বন্যার পানি ধীরগতিতে নামতে শুরু করেছে। নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার নিচে চলে আসায় প্লাবিত এলাকাগুলো থেকে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে ঠিকই, কিন্তু পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে মাঠজুড়ে স্পষ্ট হয়ে উঠছে কৃষকদের বুকফাটা কান্নার চিত্র। দীর্ঘ সময় ধরে বন্যার পানিতে তলিয়ে থাকা জমি থেকে পানি সরে যাওয়ার পর এখন ভেসে উঠছে নষ্ট ও পচে যাওয়া ফসলের ক্ষতচিহ্ন। সবুজ শস্যক্ষেতগুলো এখন বিবর্ণ, ধূসর রূপ ধারণ করেছে। বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে এখন কেবলই কৃষকদের হতাশা আর অনিশ্চয়তা। এক মৌসুমের হাড়ভাঙা খাটুনি আর পুঁজি হারিয়ে ক্ষয়ক্ষতির হিসাব কষে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কুড়িগ্রামের হাজার হাজার কৃষক।

রোববার (৫ জুলাই) জেলার ব্রহ্মপুত্র, ধরলা, তিস্তা ও দুধকুমারসহ বিভিন্ন নদ-নদীর অববাহিকা ও চরাঞ্চল ঘুরে দেখা গেছে বন্যার তাণ্ডবের চাক্ষুষ প্রমাণ। উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল আর টানা বৃষ্টিতে প্লাবিত হওয়া আবাদি জমিগুলোর পটল, মরিচ, বেগুন, আমনের বীজতলা, পাটসহ বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অনেক কৃষক চড়া সুদে ঋণ নিয়ে কিংবা এনজিও থেকে লোন নিয়ে বুকভরা আশা বুক বেঁধে চাষাবাদ করেছিলেন। কিন্তু প্রথম দফার এই বন্যাতেই তাদের সেই সোনালী স্বপ্ন চোখের পলকে ধূলিসাৎ হয়ে গেছে। বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে চরাঞ্চল ও নদী তীরবর্তী নিচু এলাকার সবজি চাষিরা। পানি নেমে যাওয়ার পর দেখা যাচ্ছে, পটলের গাছগুলো পচে মাটিতে মিশে গেছে, মরিচ ও বেগুনের ক্ষেত শুকিয়ে মরে যাচ্ছে। এছাড়া আমন ধান চাষের জন্য কৃষকেরা যে বীজতলা তৈরি করেছিলেন, তা দীর্ঘ সময় পানির নিচে থাকায় সম্পূর্ণ পচে নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে আগামীতে আমন চাষ নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তারা।

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার পাঁচগাছী ইউনিয়নের শুলকুর বাজার এলাকার ভুক্তভোগী কৃষক আব্দুল খালেক আক্ষেপ করে বলেন, “বন্যার পানিতে আমার কয়েক বিঘা জমির বিভিন্ন ধরনের সবজি পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে। ঋণ করে টাকা খাটিয়েছিলাম এই জমিতে। এখন বাজারে সবজি বেচে ঋণের টাকা শোধ করব কী, নিজের পরিবারের মুখে অন্ন জোগানোই কঠিন হয়ে পড়েছে। এত বড় ক্ষতির পর কী করব, কীভাবে আবার শুরু করব—কিছুই বুঝতে পারছি না। খুব দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে। একই এলাকার আরেক প্রান্তিক কৃষক আবু বকর তার পচে যাওয়া ক্ষেত দেখিয়ে বলেন, “আমার বেগুন ও পটলের ক্ষেত সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। পানি যখন জমিতে উঠেছিল, তখন ভেবেছিলাম দু-একদিন পর নেমে গেলে হয়তো ফসল বাঁচানো যাবে। কিন্তু পানি দীর্ঘস্থায়ী হওয়ায় সব শেষ। এখন সরকার যদি আমাদের বিনামূল্যে বীজ, সার আর পাশে না দাঁড়ায়, তাহলে আবার আমাদের মতো গরিব কৃষকদের ঘুরে দাঁড়ানো কোনোভাবেই সম্ভব হবে না। বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর কৃষকদের ভেঙে না পড়ে বিকল্প উপায়ে ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে স্থানীয় কৃষি বিভাগ। কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, পানি নেমে যাওয়ার পর কৃষকরা যদি দ্রুত ব্যবস্থা নেন, তবে কিছুটা ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব। তিনি বলেন, “যেসব জমি থেকে পানি নেমে গেছে, সেখানে কৃষকেরা নতুন করে মরিচ, বেগুন, শসা ও বিভিন্ন ধরনের দ্রুত বর্ধনশীল শাক জাতীয় ফসল চাষ করতে পারেন। আর যদি কোনো কারণে তা সম্ভব না হয়, তবে এই সময়ে মাসকলাই চাষ একটি অত্যন্ত লাভজনক বিকল্প হতে পারে।”

উপ-পরিচালক আরও সতর্ক করে দিয়ে বলেন, যেহেতু বর্ষা মৌসুম এখনও শেষ হয়নি এবং আবারও বন্যা হওয়ার একটা আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না, তাই কৃষকদের এখন থেকেই সচেতন হতে হবে। বিশেষ করে আমন ধানের বীজতলা করার জন্য নিচু জমি পরিহার করে তুলনামূলক উঁচু জমি নির্বাচন করতে হবে, যাতে পরবর্তী বন্যায় বীজতলা ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। তবে তিনি আশার কথা শুনিয়ে বলেন, জেলার পাটের গাছগুলো ইতোমধ্যে বেশ বড় হয়ে গেছে, তাই পাটের ক্ষেত্রে এই বন্যায় তেমন বড় কোনো ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা নেই। কুড়িগ্রাম জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে প্রাপ্ত প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক এই আকস্মিক বন্যায় জেলায় প্রায় ৫০০ হেক্টর জমির বিভিন্ন ধরনের ফসল ও সবজি আংশিক বা সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির এই পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কারণ প্রত্যন্ত চরাঞ্চলের অনেক জমির তথ্য এখনো চূড়ান্ত তালিকায় যুক্ত হয়নি। বর্তমানে মাঠপর্যায়ে কৃষি উপ-সহকারী কর্মকর্তারা ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ ও প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা নির্ধারণে কাজ করে যাচ্ছেন।

এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দাবি, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এড়িয়ে দ্রুত ক্ষয়ক্ষতির তালিকা সম্পন্ন করা হোক। তারা চান অতি দ্রুত তাদের হাতে সরকারি কৃষি প্রণোদনা, উন্নতমানের বিনামূল্যে বীজ, সার ও প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হোক। কৃষকদের মতে, আমন মৌসুমের সময় ফুরিয়ে যাওয়ার আগেই যদি তারা বীজ ও সার না পান, তবে নতুন করে চাষাবাদ শুরু করা অনেকের পক্ষেই সম্ভব হবে না। ফলে জেলাজুড়ে খাদ্য ঘাটতির আশঙ্কাও দেখা দিতে পারে। কৃষকদের এই সংকটের বিষয়ে কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, “আমরা বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখছি। আর মাত্র দুই-এক দিনের মধ্যেই মাঠপর্যায়ের ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন আমাদের হাতে চলে আসবে। প্রতিবেদন পাওয়া মাত্রই আমরা প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত ও প্রান্তিক কৃষকদের একটি তালিকা তৈরি করব। এরপর তাদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সরকারি জরুরি প্রণোদনা ও পুনর্বাসন কর্মসূচির আওতায় এনে বীজ ও সার বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হবে, যাতে তারা দ্রুত এই ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারেন। কুড়িগ্রামের অর্থনীতি মূলত কৃষির ওপর নির্ভরশীল। তাই এই বন্যার ধাক্কা সামলে কৃষকেরা যদি আবার মাঠে ফিরতে না পারেন, তবে গ্রামীণ অর্থনীতিতে বড় ধরনের ধস নামার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2019 Breaking News
Theme Customized By BreakingNews