
মোহাম্মদ রায়হান ইসলাম, টেকনাফ
কক্সবাজারের টেকনাফের নয়াপাড়া রেজিস্টার্ড ক্যাম্পে বজ্রপাত নিরোধক দণ্ড, সোলার প্যানেল ও সোলার লাইট চুরির সময় হাসান শরীফ ওরফে সৈয়দুল আমিন (২১) নামে এক যুবককে হাতেনাতে আটক করেছে ১৬ এপিবিএন পুলিশ। এ সময় তার কাছ থেকে চুরির কাজে ব্যবহৃত সরঞ্জাম ও বিভিন্ন চোরাই মালামাল উদ্ধার করা হয়।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকাল আনুমানিক ১০টা ৪৫ মিনিটের দিকে টেকনাফের নয়াপাড়া রেজিস্টার্ড ক্যাম্প (এক্সটেনশন)-এর জি/৭ ব্লকে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। আটক হাসান শরীফ ক্যাম্প-২৬ (শালবাগান) এর জি/১ ব্লকের বাসিন্দা।
১৬ এপিবিএন সূত্রে জানা যায়, নয়াপাড়া এপিবিএন ক্যাম্পের এসআই (নিঃ) নাঈম উদ্দিন সঙ্গীয় পুলিশ সদস্যদের নিয়ে দিবাকালীন মোবাইল ডিউটি করছিলেন। এ সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জানতে পারেন, নয়াপাড়া রেজিস্টার্ড ক্যাম্পের একটি এলাকায় সংঘবদ্ধ চোরচক্র বজ্রপাত নিরোধক দণ্ড ও সোলার লাইট চুরির উদ্দেশ্যে অবস্থান করছে।
বিষয়টি ক্যাম্প কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রবিউল ইসলামকে অবহিত করা হলে তার নির্দেশনায় পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে অভিযান চালান। অভিযানের সময় চোরচক্রের সদস্যরা হ্যাক্সো ব্লেড দিয়ে বজ্রপাত নিরোধক দণ্ড কাটার চেষ্টা করছিল। এ সময় হাসান শরীফকে চোরাই মালামালসহ হাতেনাতে আটক করা হয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তার সহযোগীরা পালিয়ে যায়।
পরে আটক হাসান শরীফের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পলাতক সহযোগী খোরশেদের বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। তবে খোরশেদকে সেখানে পাওয়া যায়নি। তার বসতঘরের পূর্ব পাশের একটি কক্ষ থেকে বিভিন্ন ক্যাম্প থেকে চুরি করা সোলার প্যানেল, সোলার লাইটসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার ও জব্দ করা হয়।
পুলিশ জানায়, অভিযানে একটি ফ্রেমসহ তিনটি হ্যাক্সো ব্লেড, একটি প্লায়ার্স, বজ্রপাত নিরোধক দণ্ডের কাটা অংশ, ৩৮ ইঞ্চি লম্বা একটি লোহার শাবল, একটি পাটের ব্যাগ, চারটি অ্যালুমিনিয়াম ফ্রেম, দুটি সোলার লাইট, একটি ১০০ ওয়াটের সোলার প্যানেল এবং একটি লোহার সোলার প্যানেল ফ্রেম জব্দ করা হয়েছে।
জব্দ করা দুটি সোলার লাইটের আনুমানিক মূল্য ৪০ হাজার টাকা এবং সোলার প্যানেলের মূল্য প্রায় ১০ হাজার টাকা বলে জানা গেছে।
এ ঘটনায় নয়াপাড়া এপিবিএন ক্যাম্পের সাধারণ ডায়েরিতে বিষয়টি নথিভুক্ত করা হয়েছে। আটক হাসান শরীফ ও পলাতক সহযোগীদের বিরুদ্ধে টেকনাফ মডেল থানায় মামলার এজাহার দাখিল করা হয়েছে। পরে আটক আসামিকে টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়।