
নৃপেন হালদার, কোটালীপাড়া (গোপালগঞ্জ)
গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলায় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন স্বপ্নতরী ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ফ্রি ব্লাড গ্রুপ টেস্ট ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করা হয়েছে। বিনামূল্যে রক্তের গ্রুপ নির্ণয়ের মাধ্যমে সাধারণ মানুষ ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে রক্তদানে উৎসাহ সৃষ্টি এবং জরুরি সময়ে রক্তের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার ২৫ শে আগস্ট উপজেলার ওয়েস্ট কোটালীপাড়া ইউনিয়ন ইনস্টিটিউশনের হলরুমে এ ফ্রি ব্লাড গ্রুপ টেস্ট ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করা হয়।
অনুষ্ঠানে ওয়েস্ট কোটালীপাড়া ইউনিয়ন ইনস্টিটিউশনের প্রধান শিক্ষক বিকাশ চন্দ বিশ্বাস প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন স্বপ্নতরী ফাউন্ডেশনের সভাপতি সুহিন মুন্সি, সহ-সভাপতি রাতুল সরদার, সদস্য রায়হান, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক সাইফ মৃধা, ক্যাশিয়ার রফিকুল ইসলাম সরদার, সিএম রিওয়ান আহম্মেদ লাবিবসহ ফাউন্ডেশনের অন্যান্য সদস্য ও স্বেচ্ছাসেবকরা।
ক্যাম্পেইনে অংশগ্রহণকারীদের বিনামূল্যে রক্তের গ্রুপ পরীক্ষা করা হয়। আয়োজকরা জানান, অনেক মানুষ নিজের রক্তের গ্রুপ সম্পর্কে সঠিকভাবে জানেন না। ফলে দুর্ঘটনা, অস্ত্রোপচার, প্রসূতি মা কিংবা অন্য কোনো জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত রক্তের প্রয়োজন হলে নানা ধরনের সমস্যার সৃষ্টি হয়। এ ধরনের ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে নিজেদের রক্তের গ্রুপ জানার সুযোগ দেওয়ার পাশাপাশি স্বেচ্ছায় রক্তদানের প্রতি আগ্রহী করে তোলাই তাদের অন্যতম লক্ষ্য।
স্বপ্নতরী ফাউন্ডেশনের সদস্যরা বলেন, রক্তদান একটি মহৎ ও মানবিক কাজ। একজন মানুষের সামান্য উদ্যোগে অন্য একজনের জীবন বাঁচতে পারে। তাই সমাজের তরুণদের মানবিক কাজে সম্পৃক্ত করা এবং রক্তদানে উদ্বুদ্ধ করার জন্য নিয়মিতভাবে এ ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করা প্রয়োজন। তারা আরও বলেন, শুধু রক্তের গ্রুপ পরীক্ষা নয়, ভবিষ্যতে প্রয়োজনের সময় রক্তদাতা খুঁজে দিতে এবং অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতেও ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কার্যক্রম পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
স্থানীয়রা স্বপ্নতরী ফাউন্ডেশনের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাদের মতে, বিনামূল্যে রক্তের গ্রুপ পরীক্ষা করার মতো কার্যক্রম একদিকে যেমন মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াবে, অন্যদিকে জরুরি সময়ে রক্তের সংকট মোকাবিলায় স্বেচ্ছায় রক্তদাতাদের একটি কার্যকর নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে সহায়তা করবে। আয়োজকরা জানান, ভবিষ্যতেও কোটালীপাড়া উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও এলাকায় এ ধরনের মানবিক ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।