
স্টাফ রিপোর্টার, বরিশাল
বরিশালে সাংবাদিকতার সাইনবোর্ড ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম, চাঁদাবাজি ও সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখানোর গুরুতর অভিযোগ উঠেছে সঞ্জীব কুমার সিংহ (পিতা: শিব শংকর সিংহ) নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। বর্তমানে তিনি নগরীর ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের নাজির মহল্লা (কাঠের পোল) এলাকায় বসবাস করলেও তার মূল বাড়ি এয়ারপোর্ট থানার উত্তর করাপুর গ্রামে।
সরেজমিনে অনুসন্ধানে জানা যায়, গত ১০-১৫ দিন আগে বরিশাল সাগরদির ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের এক চায়ের দোকানদার আলমগীর ও তার ছেলে মুসার বাড়ি নির্মাণের ত্রুটি ধরার ভয় দেখিয়ে ১ লাখ টাকা দাবি করেন সঞ্জীব সিংহ। পরবর্তীতে ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করে ভুক্তভোগী মুসা ও তার বাবা আলমগীরের কাছ থেকে জোরপূর্বক ৩৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নেন তিনি।
ভুক্তভোগী আলমগীর ও তার ছেলে মুসা জানান, তারা এই টাকা ফেরত চান এবং এই চরম অন্যায়ের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ হিসেবে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের সব ধরনের আইনি সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, সঞ্জীব সিংহের অপরাধের ইতিহাস বেশ দীর্ঘ। বিগত ২০০৬ সালের ২১ নভেম্বর বরিশাল এয়ারপোর্ট থানায় তার বিরুদ্ধে অস্ত্র আইন (১৯-F) এবং মাদক আইন (১৯/১-খ) অনুযায়ী একটি মামলা দায়ের করা হয়েছিল (মামলা নম্বর- ৪৭)। এছাড়া বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ব্যাপক দুর্নীতির দায়ে শাস্তি হিসেবে তিনি আনসারের চাকরিটি হারান।
শুধু চাঁদাবাজিই নয়, ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের সময়ও তার ভূমিকা ছিল প্রশ্নবিদ্ধ। গত ৩ আগস্ট বরিশালে হাতেম আলী কলেজ চৌমাথায় বগিদা (দেশীয় অস্ত্র) নিয়ে ছাত্র-জনতার ওপর আক্রমণ করতে দেখা গেছে এই সঞ্জীব সিংহকে।
এলাকাবাসী ও সচেতন মহলের প্রশ্ন তিনি আসলে কোন পত্রিকার সাংবাদিক? নাকি সাংবাদিকতার পরিচয়কে কেবলই অপরাধের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছেন? এই কথিত সাংবাদিক ও চাঁদাবাজের মুখোশ উন্মোচন করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার জন্য প্রশাসনের জরুরি দৃষ্টি আকর্ষণ করছে ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী।