
বেলাল উদ্দিন এম.এ, টেকনাফ:
টেকনাফ উপজেলা ভূমি অফিসে সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদান করেছেন নবাগত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আতিকুর রহমান। দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই তিনি স্থানীয় জনগণকে ভূমি আইন অনুযায়ী সঠিক, দ্রুত ও সম্পূর্ণ হয়রানিমুক্ত ভূমিসেবা প্রদানের দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।
নতুন কর্মস্থলে যোগদানের পর দেওয়া এক বক্তব্যে নবাগত এসি (ল্যান্ড) মোহাম্মদ আতিকুর রহমান জানান, টেকনাফ উপজেলার দীর্ঘদিনের ভূমি-সংক্রান্ত জটিলতা নিরসন, নামজারি (খারিজ), জমাভাগ ও একত্রীকরণ, খতিয়ান সংশোধন, এবং অবৈধ দখল ও জবরদখলজনিত বিরোধগুলো আইনানুগভাবে সমাধানের জন্য কার্যকর ও প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।
সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “সীমান্তবর্তী এই অঞ্চলে ভূমিসেবা নিতে এসে সাধারণ মানুষ দীর্ঘদিন ধরে নানা ধরনের প্রশাসনিক ও আইনি জটিলতার শিকার হয়েছেন। বিশেষ করে ভূমির সঠিক কাগজপত্র তৈরি, নামজারি, খারিজ ও খতিয়ান সংগ্রহে সাধারণ মানুষের যে দুর্ভোগ রয়েছে, তা আমি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছি। সরকারি বিধিবিধান ও ভূমি আইন অনুসরণ করে এই দুর্ভোগ দূরীকরণ এবং দ্রুততম সময়ে সেবাদান নিশ্চিত করাই হবে আমাদের প্রধান কাজ।
অবৈধ দখল ও ভূমি বিরোধে কঠোর অবস্থান টেকনাফ অঞ্চলের জটিল ভূমি পরিস্থিতি ও সীমান্ত এলাকার বৈশিষ্ট্যের কথা তুলে ধরে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, কোনো ধরনের অনিয়ম বা অবৈধ দখলদারিত্ব বরদাশত করা হবে না। তিনি বলেন, “এ এলাকায় জমিজমা নিয়ে জবরদখল, জোরপূর্বক জমি দখল, সীমানা অতিক্রম বা অনুপ্রবেশসহ নানা ধরনের আইনি বিরোধ ও মামলা-মোকদ্দমা রয়েছে। এসব বিষয়ে সরকারি নীতি ও আইনি কাঠামো মেনে প্রয়োজনীয় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো প্রভাবশালী বা অসাধু ব্যক্তি যাতে অন্যের বৈধ জমি অবৈধভাবে দখল করতে না পারে, সে বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সার্বিক সহযোগিতায় কাজ করা হবে।
সকল নাগরিকের প্রতি আহ্বান জানিয়ে নবাগত সহকারী কমিশনার (ভূমি) বলেন, “আমি আশা করি, ভবিষ্যতে টেকনাফের জনগণ ভূমি অফিসে এসে কোনো ধরনের মধ্যস্বত্বভোগী বা দালালচক্রের মুখোমুখি না হয়ে সরাসরি আইনি সেবা পাবেন। ভূমি-সংক্রান্ত যেকোনো সমস্যার সমাধানে সেবাগ্রহীতাদের সঠিক ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ সরাসরি উপজেলা ভূমি অফিসে যোগাযোগের অনুরোধ জানাচ্ছি।
তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, সাধারণ জনগণ ও ভূমি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যৌথ সহযোগিতায় একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক এবং জনগণের দোড়গোড়ায় পৌঁছানো ভূমিসেবা ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব হবে।