
সাহেববাজার স্বর্ণপট্টিতে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের উদ্যোগ, রাসিক প্রশাসকের প্রতি বাজুস নেতৃবৃন্দের কৃতজ্ঞতা
অপু দাস, রাজশাহী
রাজশাহী মহানগরীর প্রাণকেন্দ্র সাহেববাজারের স্বর্ণপট্টি এলাকায় ব্যবসায়িক নিরাপত্তা জোরদারের লক্ষ্যে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) রাজশাহী জেলা শাখার নেতৃবৃন্দ রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসকের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে একটি লিখিত আবেদনপত্র জমা দিয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি সাহেববাজারের একটি স্বর্ণ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে চুরির ঘটনার পর পুরো স্বর্ণপট্টি এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। ঘটনার পরপরই রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা বলেন এবং ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দেন।
এ সময় তিনি অপরাধ প্রতিরোধ, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর সুরক্ষা নিশ্চিতকরণ এবং নগর ব্যবস্থাপনায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধির লক্ষ্যে সাহেববাজার স্বর্ণপট্টির গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের পরিকল্পনার কথা জানান। প্রশাসকের এই আশ্বাস ব্যবসায়ীদের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলে এবং তারা বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে অভিহিত করেন।
এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার (২৪ জুন ২০২৬) বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) রাজশাহী জেলা শাখার পক্ষ থেকে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসকের কাছে একটি লিখিত আবেদনপত্র প্রদান করা হয়। আবেদনপত্রে সাহেববাজার স্বর্ণপট্টি এলাকায় দ্রুত সিসি ক্যামেরা স্থাপনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয় এবং ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তার স্বার্থে বিষয়টি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বাস্তবায়নের অনুরোধ জানানো হয়।
সৌজন্য সাক্ষাৎকালে বাজুস নেতৃবৃন্দ বলেন, সাহেববাজার স্বর্ণপট্টি শুধু রাজশাহীর নয়, উত্তরাঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্বর্ণ ব্যবসাকেন্দ্র। প্রতিদিন এখানে বিপুল সংখ্যক ক্রেতা-বিক্রেতার সমাগম ঘটে এবং কোটি টাকার লেনদেন সম্পন্ন হয়। ফলে এই এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও আধুনিক ও শক্তিশালী করা সময়ের দাবি।
তারা আরও বলেন, সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হলে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা পালন করবে। কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে দ্রুত তথ্য সংগ্রহ, অপরাধী শনাক্তকরণ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা সহজ হবে। পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের মধ্যে নিরাপত্তা ও আস্থার পরিবেশ আরও সুদৃঢ় হবে।
বাজুস নেতারা মনে করেন, নগরীর গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকাগুলোতে প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু করা বর্তমান সময়ের অন্যতম প্রয়োজন। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসকের উদ্যোগ দূরদর্শী, বাস্তবসম্মত এবং ব্যবসাবান্ধব পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হবে।
সাক্ষাৎকালে নেতৃবৃন্দ ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষায় গৃহীত এই উদ্যোগের জন্য প্রশাসকের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও শুভেচ্ছা জানান। তারা আশা প্রকাশ করেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে সাহেববাজার স্বর্ণপট্টির সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হবে এবং ব্যবসায়িক পরিবেশ অধিকতর নিরাপদ ও স্থিতিশীল হয়ে উঠবে।
এ সময় রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আবেদনপত্র গ্রহণ করেন এবং বিষয়টির প্রতি আন্তরিক আগ্রহ প্রকাশ করেন। তিনি নিরাপত্তা জোরদারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের ব্যাপারে ইতিবাচক মনোভাব ব্যক্ত করেন বলে জানা যায়।
সৌজন্য সাক্ষাৎকালে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) রাজশাহী জেলা শাখার চেয়ারম্যান মো. আশরাফুল ইসলাম (অপু), সাধারণ সম্পাদক মো. সামিউল ইসলাম (সুইট) এবং সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। তারা সম্মিলিতভাবে আশা প্রকাশ করেন, প্রশাসন ও ব্যবসায়ী সমাজের সমন্বিত প্রচেষ্টায় সাহেববাজার স্বর্ণপট্টি আরও নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও আধুনিক বাণিজ্যিক এলাকায় পরিণত হবে।