
*আলীকদমে সুপেয় পানির প্রকল্প: কারও ঘরে পানি, কারও ভাগ্যে অপেক্ষা*
মুহাম্মদ সালাহ্ উদ্দীন
স্টাফ রিপোর্টার – আলীকদম (বান্দরবান)
বান্দরবান পৌরসভা এবং তিন উপজেলার সদরসহ পার্শ্ববর্তী এলাকায় নিরাপদ পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা সম্প্রসারণ ও উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় আলীকদম উপজেলায় ব্যাপকভাবে পানি সরবরাহ নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ করা হলেও উপজেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ জনবহুল এলাকা এখনো এই সুবিধার বাইরে রয়ে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসের উত্তর পাশে পাহাড়চূড়ায় অবস্থিত পানি শোধনাগার থেকে আলীকদম সদরের বিভিন্ন এলাকায় পাইপলাইন সম্প্রসারণ করা হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, থানচি সড়কের হাফিজের দোকান পর্যন্ত এবং পানবাজার তিন রাস্তার মোড় থেকে পাহাড়তলী পাড়ার কালভার্ট এলাকা পর্যন্ত পাইপলাইন স্থাপন করা হয়েছে।
তবে গেট ভালভ, নিপল ও অন্যান্য কারিগরি সংযোগকাজ এখনো অসম্পূর্ণ থাকায় সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে পানি সরবরাহ চালু হয়নি।
অন্যদিকে, আলীকদম চৌমুহনী চত্বর সংলগ্ন মসজিদ থেকে শুরু করে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরের ৯৭ (সাতান্নব্বই) ক্যান্টিন তিন রাস্তার মোড় পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকায় এখনো পানি শোধনাগারের কোনো পাইপলাইন স্থাপন করা হয়নি বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
ফলে ওই এলাকার বাসিন্দারা নিরাপদ ও বিশুদ্ধ পানির সুবিধা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চৌমুহনী থেকে ৯৭ ক্যান্টিন পর্যন্ত সড়কের পশ্চিম পাশে ফরিদ চেয়ারম্যান পাড়া, আনোয়ার হোসেন চৌধুরী পাড়া, সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান শিরীন আক্তারের বাড়ি সংলগ্ন গ্রামসহ একাধিক আবাসিক এলাকা অবস্থিত।
পাশাপাশি সরকারি ও বেসরকারি মিলিয়ে চার থেকে পাঁচটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও এই এলাকায় রয়েছে।
স্থানীয়দের মতে, এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শত শত শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মচারী প্রতিদিন বিশুদ্ধ পানির প্রয়োজনীয়তা অনুভব করলেও সরকারি পানি সরবরাহ ব্যবস্থার আওতায় না থাকায় তারা এ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
বিদ্যালয়ের অফিস কার্যক্রম, শিক্ষক-কর্মচারীদের দৈনন্দিন ব্যবহার এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপদ পানির চাহিদা পূরণেও নানা সীমাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে।
এ বিষয়ে আলীকদমের বিশিষ্ট সমাজসেবক ও সুশীল ব্যক্তিত্ব জনাব মোহাম্মদ আবুল আক্তার (মুন্না)সাহেব বলেন, চৌমুহনী মসজিদ থেকে ৯৭ ক্যান্টিন পর্যন্ত এলাকায় পানি শোধনাগারের কোনো পাইপলাইন নেই। অথচ এখানে কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ ঘনবসতিপূর্ণ জনপদ রয়েছে।
শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও স্থানীয় মানুষ নিরাপদ পানির সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
এই এলাকায় পাইপলাইন সম্প্রসারণ করা হলে হাজারো মানুষের দুর্ভোগ লাঘব হবে এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোও উপকৃত হবে।
এ বিষয়ে আলীকদম জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইকবাল জানান, প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে স্থানীয় চাহিদা, জরিপ এবং বরাদ্দকে ভিত্তি হিসেবে ধরা হয়।
তিনি বলেন, যেসব এলাকার জন্য চাহিদা ও বরাদ্দ ছিল, সেসব এলাকাতেই কাজ করা হয়েছে।
চৌমুহনী থেকে ৯৭ ক্যান্টিন পর্যন্ত অংশে এ প্রকল্পের আওতায় কোনো বরাদ্দ না থাকায় সেখানে পাইপলাইন স্থাপন করা সম্ভব হয়নি। ভবিষ্যতে নতুন প্রকল্প বা অতিরিক্ত বরাদ্দ পাওয়া গেলে বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হবে।
তিনি আরও জানান, থানচি সড়কের হাফিজের দোকান এলাকা এবং পানবাজার থেকে পাহাড়তলী পাড়া পর্যন্ত স্থাপিত পাইপলাইনের অবশিষ্ট কারিগরি কাজ সম্পন্ন হলে সেখানে পানি সরবরাহ চালু করা হবে।
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, নিরাপদ পানি নাগরিকের মৌলিক অধিকার।
তাই চৌমুহনী মসজিদ থেকে ৯৭ ক্যান্টিন পর্যন্ত জনবহুল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমৃদ্ধ এলাকাকে দ্রুত পানি সরবরাহ নেটওয়ার্কের আওতায় এনে দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটানো প্রয়োজন।
স্থানীয়দের প্রশ্ন এখন একটাই—একই প্রকল্পের পানি যখন পাশের এলাকায় পৌঁছেছে, তখন চৌমুহনী থেকে ৯৭ ক্যান্টিন পর্যন্ত মানুষকে আর কতদিন অপেক্ষা করতে হবে সুপেয় পানির জন্য?